সিলেট নগরীতে আবারও জঙ্গি তত্পরতা শুরু হয়েছে। কয়েক দিন আগে নগরীতে এক জন ট্রাফিক পুলিশের মোটরসাইকেলে বোমাসদৃশ্য বস্তুটি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। যদিও পরে দেখা যায় সেটি টাইলস কাটার একটি যন্ত্র। এরই মধ্যে পাঁচ জঙ্গি গ্রেফতার, বোমা ও বোমার সরঞ্জাম উদ্ধার এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে বোমা হামলার পরিকল্পনার তথ্য পুলিশ বের করলে সিলেটবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তাদের ভয়—কখন, কোথায় আবার ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। এসএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়া গতকাল সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, ‘জঙ্গি তত্পরতার বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় এলার্ট। এদের মূল উত্পাটন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিনরাত কাজ করছে।’ তিনি জানান, মাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
সিলেটে জঙ্গি তত্পরতা শুরু হয় বেশ আগেই। ২০০৪ সালে ২১ মে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে বড় ঘটনা ঘটায় তারা। ঐ সময় জঙ্গি হামলায় পুলিশসহ পাঁচ জন মারা যান। আহত হন ৫০ জন। একই বছরের ৭ আগস্ট নগরীর হোটেল গুলশান সেন্টারের সামনে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম আলী। এ সময় ২০ জন গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে আহত হন। তখন অনেকটা ভাগ্যগুণে প্রাণে বেঁচে যান মহানগর আওয়ামী লীগের তত্কালীন সভাপতি ও সিসিক মেয়র সদ্যপ্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ২০০৫ সালে ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এম কিবরিয়া। এছাড়া তার ভাতিজাসহ ছয় জন মারা যান। ২০০৫ সালের ২ ডিসেম্বর টিলাগড়ে ব্যাডমিন্টন মাঠে তত্কালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী গ্রেনেড ছোড়া হলেও আবারও ভাগ্যগুণে বেঁচে যান তিনি। গ্রেনেডটি ফাটেনি। এছাড়া কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে সিরিজ বোমা হামলা, সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা) বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর বাসভবনে বোমা হামলার ঘটনা, ফাজিল চিশত্ এলাকায় ডা. রিফার বাসভবনে বোমা তৈরির সময় দুই জন নিহতের ঘটনাসহ নানা ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল গত দুই দিনের জঙ্গি তত্পরতা।
মঙ্গলবার রাতে জালালাবাদ ও টিলাগড়ের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার দুটি বাসা থেকে বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও কম্পিউটার উদ্ধারের পর নগরবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি নামে। এর আগে রবিবার রাতে মিরাবাজার উদ্দীপন-৫১ নম্বর বাসা থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা নব্য জেএমবির সিলেট আঞ্চলিক কমান্ডার নাইমুজ্জামান নাইমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে, পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আরো চার জনকে। তাদের নাম সানাউল ইসলাম সাদী, মির্জা সায়েম, জুয়েল ও রুবেল। নাইম ও সাদী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই পাঁচ জঙ্গির হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারা জানায়।
সূর্যদিঘল বাড়ি থেকে শাহ ভিলা
নগরীর টিলাগড় এলাকার শাপলাবাগের সেই সূর্যদিঘল বাড়ি ১৪ বছর আগে জঙ্গি নেতা শায়েখ আবদুর রহমানের গোপন আস্তানা ছিল। শাপলাবাগের শাহ ভিলা থেকে বোমা ও সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায়, সেই সূর্যদিঘল বাড়ি ও জেএমবির তত্পরতা নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। ২০০৬ সালের ২ মার্চ র্যাবের অভিযানে সূর্যদিঘল বাড়ি থেকে ধরা পড়ে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান। শায়খ রহমানকে এক বছর পর ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ফাঁসি দেওয়া হয়।
