৩০০ টাকার বিনিময়ে শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ২২:১৯

রাজশাহীর চারঘাটে গলার রুপার চেইন ও কোমরের বিছার জন্য ননদের দেড় বছরের শিশু সন্তান আজমাইন সারোয়ার আলিফকে পানিতে ফেলে হত্যার দায় স্বীকার করেছে এক নারী। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উপজেলার চক শিমুলিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলের স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫) ঐ শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করে। জবানবন্দিতে মাত্র ৩০০ টাকার বিনিময়ে আজাদ আলী নামে এক মাদকাসক্তকে দিয়ে শিশুটিকে নদীতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করে সে। আজাদ আলীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, গত ৯ আগস্ট চারঘাট মডেল থানাধীন কালুহাটি গ্রাম সংলগ্ন বড়াল নদী থেকে পুলিশ শিশু আলিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা চম্পা বেগম ঐদিন তার ভাবী পারভীন বেগমকে একমাত্র আসামি করে চারঘাট মডেল থানায় মামলা করে। পুলিশ এজাহার নামীয় আসামি পারভীন বেগমকে (৩৫) গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে পারভীন বেগম জানায়, একই গ্রামের মাদকাসক্ত আজাদকে (৩৬) নিয়ে ৭ আগস্ট শিশু আলিফকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা করে সে। এরপর পরিকল্পনা মোতাবেক পরদিন দুপুর ১২টার দিকে মায়ের সামনে থেকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় পারভীন বেগম এবং রাস্তায় অপেক্ষমান আজাদের কাছে শিশু আলিফকে হস্তান্তর করে। পরে আজাদ শিশু আলিফের রুপার চেইন ও কোমরের বিছা খুলে নিয়ে তাকে বড়াল নদীতে ফেলে দেয়। এরপর পারভীন বেগমের হাতে চেইন ও বিছা তুলে দেয় আজাদ এবং পারভীনও চুক্তিমত তাকে ৩০০ টাকা পরিশোধ করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার আগে পারভীন বেগমকে নিয়ে তার বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির আঙ্গিনার লিচু গাছের তলায় আবর্জনার স্তূপের নিচে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় শিশু আলিফের রুপার চেইন ও কোমরের বিছা উদ্ধার করা হয়। পারভীনের সহযোগী আজাদকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।