বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে সাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে আমাদের দেশের সড়কগুলো সাইকেল চালানোর উপযোগী নয়। সড়কগুলো সাইকেলচালকদের উপযোগী করতে পৃথক লেন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞজনেরা। তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলতে বাধ্য হচ্ছে সাইকেল ব্যবহারকারীরা। সাইকেলের জন্য পৃথক লেনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানজট হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে বায়ুদূষণ যেমন কমবে, তেমনি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে উঠবে।
সম্প্রতি ৭ আগস্ট সাইক্লিস্ট রেশমা নাহার রত্নাকে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানসংলগ্ন লেকরোডে সাইক্লিং করার সময় একটি প্রাইভেট কার চাপা দিয়ে হত্যা করে। রেশমা নাহার রত্নার মতো হাজারো সাইক্লিস্ট ও পথচারী এমনিভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও সমমনা সংগঠনগুলো জনগণকে সাইকেল চালাতে উত্সাহিত করার পাশাপাশি সাইকেলের জন্য পৃথক লেনের দাবিতে দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলন করে আসছে। এতে সরকার সাইকেল লেনের জন্য কিছু উদ্যোগ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই যত্সামান্য।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, সাইকেল একটি পরিবেশবান্ধব বাহন। পৃথিবীর বহু দেশেই নতুন করে সাইকেলের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। ইউরোপ এবং আমেরিকার কোনো কোনো শহরের নির্দিষ্ট কিছু সড়কে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে সাইকেল ছাড়া অন্য সব বাহন চলাচল বন্ধ থাকে। অর্থাত্ সাইকেলের গুরুত্ব ক্রমেই অনুধাবন করছে বিশ্ববাসী। বাংলাদেশে আজকাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি অফিসে যাতায়াতের জন্য সাইকেলের ব্যবহার অনেকাংশে বাড়ছে। বর্তমানে অনলাইন সার্ভিসের কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে সাইকেলের ব্যবহার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকার যে বিশাল ট্র্যাফিক জ্যাম সেটা দূর করে সময় বাঁচানোর জন্য সহজ এবং পরীক্ষিত বাহন ছাড়া অন্য কোনো বাহন নেই।
বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে যান্ত্রিক বাহনে করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। নীতিমালায় ও আইনে পথচারীদের অগ্রাধিকারের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন নেই। সাইকেলের ব্যবহার ইদানীং বৃদ্ধি পেলেও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন বা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখনো নেই। রাস্তার তুলনায় প্রাইভেট কার ও অন্যান্য গাড়ি অনেক বেশি। বিশেষ করে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ বাস্তবায়ন শিথিলতার কারণে বেপরোয়া গাড়ি চালানো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না এবং দুর্ঘটনার নামে হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে। এরই মধ্যে গভীর রাতে এবং ভোরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল বেড়েই যাচ্ছে। এমনি এক বেপরোয়া গাড়ি চালানোর শিকার হলেন রেশমা নাহার রত্না।
