জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে গভীর শোক আর বিনম্র শ্রদ্ধায় রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু ও পরিবারবর্গকে স্মরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার রাজশাহীতে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়া বিভাগটির প্রতিটি জেলা, উপজেলায় পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি।
সকালে নগরীর কুমারপাড়াস্থ মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এতে নেতৃত্ব দেন। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।
এদিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সকালে রাজশাহী কলেজ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে নগরীর রাণীবাজারে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারাসহ অন্য নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অন্যদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি উদযাপন করেছে জেলা প্রশাসন। কর্মসূচি অনুযায়ী ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন, সকাল ৮টায় শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান জেলা পরিষদ মিলনায়তন চত্বরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অপর্ণ করা হয়। এখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তার, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল, জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে সকাল ১০টায় শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে ‘হে পিতা তোমায় নিয়ে কবিতা’ শীর্ষক আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের পক্ষে নগরীর সাহেবাবাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় নগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, সম্পাদকম-লীর সদস্য এন্তাজুল হক বাবু, সিরাজুর রহমান খান, আবুল কালাম আজাদ, আবদুল মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রহনপুর-সিঙ্গাবাদ রেল রুট দিয়ে খুলছে ত্রিদেশীয় বাণিজ্যের দ্বার
মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে রাজশাহীস্থ ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় ১৪ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন, শিশু সদন ও সেফহোম, ছোটমনি নিবাস, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, প্রতিবন্ধি ফাউন্ডেশন স্কুল ও এতিমখানায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা, হামদ-নাত পরিবেশন, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বাদ যোহর অথবা সুবিধামত সময়ে মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাজশাহী কার্যালয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, তথ্য ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসন জাতীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্ব-স্ব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে।
ইত্তেফাক/এসি
