জাতি নানা আয়োজনে গতকাল পালন করেছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস। আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের বিচারের দাবি উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিন। যারা বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে এসেছিলেন তারা তার কথা নতুন প্রজন্মের তরুণদের, কিশোরদের জানান। তারা দেশকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পাবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস পাবে। জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত বাদল প্রমুখ। এছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দোয়া ও আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংস্থা দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করেছে। যার মধ্যে ছিল জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার, আলোচনা সভা ও খাদ্য বিতরণ। সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামিল আহমেদ প্রমুখ। রাজবাড়ী রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল প্রমুখ নেতা। পরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি। বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জাতীয় শোক দিবসে জেলাব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী ম্যুরাল নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত পুরোনো ডাকবাংলো সংলগ্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সর্বস্তরের মানুষ। জুম অ্যাপের মাধ্যমে আয়োজন করা হয় ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শাহাদতবরণকারীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় জেলার সব মসজিদ ও মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া মন্দির ও গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা হয়।
আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকারী সকলের বিচারের রায় কার্যকর ছাড়াও এই হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের বিচারের দাবি জানানো হয়। জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় স্বল্প পরিসরে আলোচনা সভা। জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ফৌজিয়া খান প্রমুখ এতে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলার কেন্দ্রীয় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিফলকে জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ফৌজিয়া খানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ঘিওর উপজেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের পৃথক উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শোক শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলা দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তায়েবুর রহমান টিপু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার প্রমুখ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষে প্রশিক্ষিত যুবক/যুব মহিলাদের মধ্যে ঋণের চেক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা, গণভোজ, বৃক্ষরোপণ, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ধামরাইয়ে সীমিত পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ অন্য কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সূতিপাড়া এফটিসিতে এসডিআই আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক। প্রত্যাশা স্কুল ও বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অনুষ্ঠানে প্রধান ছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি বালিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আহাম্মদ হোসেন। কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান প্রধান ছিলেন ঢাকা জেলা আ. লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আসকের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক আয়ুব।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, যুব ঋণের চেক বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম বাবু। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ওয়াজ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি মো. উজ্জল হোসেন, আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাইদ মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন প্রমুখ। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রধান ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সাভার, সোনারগাঁও, দোহার-নবাবগঞ্জ, কাপাসিয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গী, রূপগঞ্জ, সিংগাইর, গজারিয়া, টঙ্গিবাড়ী, কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জে দিবসটি উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
