টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ২৩:৩৭

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা  হয়েছে। প্রতি বছর এই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুকন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বাবার কবর জিয়ারত করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। বৈশ্বিক বা দেশ জুড়ে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার টুঙ্গিপাড়ায় আসেননি প্রধানমন্ত্রী ও তার স্বজনেরা। সীমিত পরিসরে এ বছর জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শনিবার সকাল ১০টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী বিএসপি (বার), এনডিসি, পিএসসি।

এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর। পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, শাহজাহান খান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি, আফজাল হোসেন, সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল বাসার খায়ের, সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল শেখ, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সোলয়মান বিশ্বাস, সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, পৌর মেয়র শেখ আহমেদ হোসেন মির্জা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান বিশ্বাস, কৃষক লীগের সভাপতি মো. মিলন মোল্লা, ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজাউল হক বিশ্বাসসহ জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসডিয়াম সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেসব খুনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন বিদেশে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে পালিয়ে আছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার।

প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমান জড়িত। তাই দেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে ঘৃণাভরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

বেলা ১১টায় সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা টাঙানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের নিহত অন্য সদস্যদের নামে তোরণ।