ইছামতি নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইছামতি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত রুদ্রপুর ও খলসী খালে ত্রুটিপূর্ণ স্লুইসগেট নির্মাণের কারণেই পানিতে তলিয়ে গেছে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল। অনেকের বাড়িঘরেও পানি উঠতে শুরু করেছে।
শার্শা উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার উত্তর অঞ্চলের পানি নামতে শুরু করলেও দক্ষিণ অঞ্চলে প্রতিদিন পানি বাড়ছে। পাঁচটি ইউনিয়নের পানি ইছামতি নদীর মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু নদীটির বাংলাদেশ অংশ ভরাট হয়ে ধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে। এতে সীমান্তের ওপার থেকে পানি সহজেই খালের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ১৩১ হেক্টর জমিতে ফসল লাগানো হয়েছে। এরমধ্যে ভারতের উজানের পানি ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে ২ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমির ধান পাট ও সবজিখেত তলিয়ে গেছে। কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর খালে ২টি ও পুটখালী ইউনিয়নের খলসী খালে একটি স্লুইসগেট রয়েছে। ওপারের পানি আটকানোর জন্য খালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলেও নির্মাণ ত্রুটির জন্য পানি আটকানো যাচ্ছে না। কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু জানান, সীমান্তের ইছামতি নদী দিয়ে আসা ওপারের পানিতে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। রুদ্রপুর গ্রামের মহসিন আলি বলেন, ঘরে পানি প্রবেশ করায় আমরা সাত দিন ধরে ঘরে আটকে আছি। প্রতিদিন পানি বাড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মণ্ডল বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফসলের ক্ষতিই বেশি হয়েছে। এটা বন্যা না জলাবদ্ধতার কারণে হয়েছে। এসময় পানি প্রবাহের বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন ধরনের ৪টি জালপাটা অপসারণ করা হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন ইছামতি নদীর পানির সমস্যাটা আন্তর্জাতিক ব্যাপার। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইচ্ছা করলে এর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পারে। বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সমস্যাটি জানতে পেরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
