পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আমন মৌসুমে অনাবাদি পড়ে আছে প্রায় ৫০০ একর জমি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের রাজবল্লভ বোতলার দোলায় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধে পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। উক্ত স্লুইসগেট দিয়ে প্রায় ৫০০ একর চাষাবাদকৃত জমির পানি নিষ্কাশন হতো; কিন্তু স্লুইসগেটটি ছোট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত গতিতে নেমে যেতে না পারায় কৃষকের চাষাবাদকৃত আমন ধান তলিয়ে যায়।
এদিকে এ বছর ছোট স্লুইসগেটটি নষ্ট হওয়ায় তা সংস্কারের জন্য রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ৭ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে স্লুইসগেট তৈরি করে; কিন্তু সেই স্লুইসগেট দিয়েও পানি যাচ্ছে না। ফলে দোলার পানি বের হচ্ছে না। এ কারণেই গত ২/৩ বছর থেকে আমন মৌসুমে অনাবাদি পড়ে আছে কয়েক শ একর জমি।
কৃষক লিয়াকত, দুলাল, মোত্তালেব ও আবুবার হোসেন জানান, রাজবল্লভ, জয়দেব, একনাথ, মানাষপাড়া, হাজীপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ১ হাজার কৃষকের ৫০০ একরের অধিক জমি রয়েছে। উক্ত জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে আমরা সংসার চালাই; কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের অভাবে জমে থাকা পানিতে আমন ধান তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই আমরা ছোট স্লুইসগেটের স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছি।
গজঘণ্টা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী বলেন, ভাটিতে ক্যানেলের সম্মুখে ভরাট হওয়ার কারণে দোলার পানি বের হচ্ছে না। ছোট স্লুইসগেটের স্থানে ব্রিজ নির্মাণ এবং ভাটিতে ক্যানেল খনন করা হলে এলাকার কৃষকের আমন ধানখেত নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন রোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া জানান, এলাকার লোকজন পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি রেগুলেটর কাম ব্রিজ দাবি করে আসছিল। এটি নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ দরকার ৩ কোটি টাকার ওপরে। পাশ হলে রেগুলেটর কাম ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। আপাতত কালভার্টটি মেরামত করা হয়েছে।
