আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছিনতাই ডাকাতি খুন

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২০, ২২:১০

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বায়িং হাউজ কর্মকর্তা সুলতান। গত ১৪ জুলাই মতিঝিলের একটি মানি এক্সচেঞ্জ অফিস থেকে বের হন। হাতে ছিল একটি ব্যাগ। দুর্বৃত্তদের ধারণা ছিল ব্যাগে প্রচুর টাকা আছে। এরপর থেকে তাকে অনুসরণ করতে থাকে। বাস থেকে পল্লবীতে নামার পরই দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে জোর করে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে তল্লাশি করে তার ব্যাগ। পাওয়া যায় সামান্য টাকা। এ অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে কোথায় নামিয়ে দেবে এমনই পরিকল্পনা করে। কিন্তু সুলতান চিত্কার দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ ফেলে দেয় মানিকগঞ্জের সিংগাইরে হাইওয়ে সড়কের ঢালের ঝোপে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্যই জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাত দুর্বৃত্ত। ডিবি পুলিশ শরীয়তপুর ও রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এরা হলো—কাজী আকবর আলী, ফরহাদ হোসেন, জালাল উদ্দিন ওরফে সুমন, সাহারুল ইসলাম ওরফে সাগর, আমিনুল ইসলাম ওরফে সবুজ, রুহুল আমিন, ইব্রাহীম ওরফে নেতা ইব্রাহীম। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহূত র্যাবের দুইটি জ্যাকেট, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন সংযুক্ত পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল ও একটি পিস্তলের কভার। গতকাল রবিবার তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি পুলিশ।

 ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গুলশান) মশিউর রহমান বলেন, সুলতান হোসেন তেজগাঁও থানার নাখালপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। প্রতিদিনের মতো গত ১৪ জুলাই সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হন। অফিস শেষে পুনরায় বাসায় ফেরত না আসায় নিহতের ভাই পরের দিন তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরের দিন ১৬ জুলাই মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার হাইওয়ে সড়কের ঢালে ঝোপের ভেতর অজ্ঞাত পরিচয় লাশ পাওয়া যায়। সুলতানের আত্মীয়-স্বজন সিংগাইর থানায় গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই ১৮ জুলাই তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়দানকারী একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যারা হুন্ডির ব্যবসা করে, বেশি ডলার ভাঙায় ও ব্যাংক হতে মোটা অংকের টাকার লেনদেন করে এমন লোকদের টার্গেট করে। পরবর্তী সময়ে তাদের অনুসরণ করে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে র্যাব পরিচয় দিয়ে গাড়িতে উঠায়। হাত-পা বেঁধে মারধর করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থসহ যাবতীয় মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

অভিযান পরিচালনাকারী গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. গোলাম সাকলায়েন বলেন, বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের সখিপুর এলাকার সরকার গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে জালাল উদ্দিন ওরফে সুমনকে ছিনতাইয়ে ব্যবহূত অ্যামু্বলেন্সসহ গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঐ দিন পুরানা পল্টন লাইন এলাকা থেকে বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা।