আড়াইহাজারে কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া এক গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ট্যাটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইল মোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মিলে অন্তত ২৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট উপজেলার কাকাইল মোড়া গ্রামে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় বিভক্ত হয়ে পড়ে কাকাইল মোড়া গ্রাম। ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে কয়েক দিন আগে ঐ গ্রামের আগামী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য সদস্য প্রার্থী জুলহাসের লোকজন ফেসবুকে বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস দেয়। এতে বর্তমান সদস্য লোকমান ও তার সহযোগী তোফাজ্জলসহ আরো কয়েক জনকে দায়ী করে বিচার চাওয়া হয়। এই নিয়ে লোকমান ও জুলহাসের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে গতকাল সকাল ৯টার দিকে উভয় পক্ষ দা, ছুরি, ট্যাটা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সারাদিন থেমে থেমে চলা সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ট্যাটাবিদ্ধ এক জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আট জনকে আড়াইহাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ওসি (তদন্ত) শওকত হোসেন, এসআই গাজী শামীম, এসআই সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে এলাকায় ২০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।
