দেশের যে কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করে উড়োজাহাজে যাতায়াত করলে দিতে হবে যাত্রী নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গতকাল রবিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়ার সঙ্গে এই অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করবে। অর্থাত্ যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া বাড়ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে জারি করা আদেশে তিনটি শ্রেণিতে ঐ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশে চলাচলের জন্য বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি হবে যাত্রীপ্রতি ৫ ডলার (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে ৪২৫ টাকা) এবং নিরাপত্তা ফি ৬ ডলার, মোট ১১ ডলার। সার্কবহির্ভূত দেশে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের দিতে হবে উভয়ক্ষেত্রে ১০ ডলার করে মোট ২০ ডলার। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ৭টি বিমানবন্দরে যেতে উড়োজাহাজ ব্যবহারকারীদের বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি ১০০ টাকা এবং যাত্রী নিরাপত্তা ফি ৭০ টাকা করে মোট ১৭০ টাকা বাড়তি দিতে হবে।
জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন বিষয় হলেও বহির্বিশ্বে এটি চলে আসছে অনেক দিন ধরে। ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রথা চালু রয়েছে। যাত্রীরা কেন অতিরিক্ত টাকা গুনবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতে যাত্রীপরিসেবার মান উন্নয়ন হবে। দেশের সাতটি বিমানবন্দরের উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এছাড়া যাত্রীদের ব্যক্তিগত ও পাসপোর্টে উল্লেখিত যাবতীয় তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকার আগেই জানতে পারবে, এমন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে যাত্রী নিরাপত্তা ফি বাবদ আদায়কৃত টাকা ব্যয় করা হবে।
সিনিয়র সচিব আরো জানান, রিটার্ন টিকিটের ক্ষেত্রে মাত্র একবার ঐ ফি প্রযোজ্য হবে। অর্থাত্ একজন যাত্রীকে একবার যাতায়াতে টিকিটের ওপর দুই ধরনের ফি দিতে হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিমানবন্দর উন্নয়ন ফি এবং নিরাপত্তা ফি বলবত্ করার কারণে সরকার থেকে বিমান ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে না। বিমান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে টিকিটের ওপর অতিরিক্ত হিসাবে ঐ দুই ধরনের ফি কার্যকর হয়েছে।
এদিকে সিনিয়র সচিব জানিয়েছেন, করোনা সংকটে গত মার্চ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে। সকল রুটেই বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। এখনো সংকট পুরোপুরি কাটেনি। শুধুমাত্র দুবাই, আবুধাবি, লন্ডন ও মালয়েশিয়া রুটে বিমান চলছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সকল রুটে মাত্র একমাস হয় বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। দিল্লি, কলকাতাসহ অন্যান্য রুটে কবে বিমান চালু করা হবে সেটি এখনো অনিশ্চিত।
