প্রেম ঘটিত কারনেই খুন হন পল্লী চিকিৎসক টিপু

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ১২:৩০

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ত্রিপুরার মেয়ের সঙ্গে প্রেম করার কারণেই খুন করা হয় পল্লী চিকিৎসক নুর মোহাম্মদ টিপুকে (৩৫)। সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ হত্যায় জড়িত ৭ যুবককে গ্রেফতারের মাধ্যমে ২১ দিনের মাথায় আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। শনি-রবিবার মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৭ জন ত্রিপুরা যুবককে আটক করে মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হল-  গুইমারার মাইরং পাড়ার কুমার ত্রিপুরার ছেলে নিপুন ত্রিপুরা (১৭), মাটিরাঙ্গার কাঁঠালিয়া পাড়ার শান্তি ত্রিপুরা (২০), সুমন ত্রিপুরা (২০), ডেনী ত্রিপুরা (২৪), দীপন ত্রিপুরা (২৩), স্বপন ত্রিপুরা (২৪) ও নীল ত্রিপুরা (২৩)।

মাটিরাঙা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুদ্দিন ভূঁইয়া জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হত্যার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী নিপুন ত্রিপুরাসহ  সুমন ত্রিপুরা, শান্তি ত্রিপুরা, স্বপন ত্রিপুরা ও নীল ত্রিপুরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আদলতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ওসি জানান, মাটিরাঙ্গার স্থানীয় এক ত্রিপুরা মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিপুন ত্রিপুরার। নিপুন মাটিরাঙ্গার মিউনিসিপল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র।

অন্যদিকে, একই মেয়ের সাথে প্রেম ঘটিত সম্পর্ক গড়ে উঠে মাটিরাঙ্গা পৗরসভার ২ নং ওয়ার্ডের ১০ নম্বর মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক নুর মোহাম্মদ টিপুর। বিষয়টি জানতে পেরে আক্রোশে জ্বলে উঠে মেয়েটির কিশোর প্রেমিক নিপুন ত্রিপুরা। প্রেমিকার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করায় ক্ষুব্ধ নিপুন তার ৬ সঙ্গীর সাথে আলোচনা করে টিপুকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৪ জুলাই ভোর রাত ৪ টার দিকে স্বপনের  স্ত্রীর প্রসব সক্রান্ত অসুস্থতার চিকিৎসার কথা বলে পল্লী চিকিৎসক নুর মোহাম্মদ টিপুকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্বপন, নিপুন ও নীল। তারা ডাক্তার টিপুর পরিচিত। এসময়য় অপর ৪ জন বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। বাসা থেকে বের হওয়ার পর কিছু দূর যাওয়ার পর ৭ বন্ধু মিলে ধারালো অস্ত্রের মুখে সাপমারা ব্রিজের কাছে  নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ৭ জনে মিলে টিপুর হাত, পা  মুখ বেধে শক্ত লাঠি দিয়ে বেদম পিটায়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় এলোপাথাড়ি  আঘাত করে। এতে তিনি মারা যান। পরে তারা টিপুর উলঙ্গ মরদেহ খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপমারা ব্রিজের নীচে ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ  ২৪ জুলাই  বেলা ২ টার দিকে ঐ ব্রিজের নীচ থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় টিপুর মরদেহ উদ্ধার করে।

মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মো. শামসুদ্দিন ভূঁইয়া আরও জানান, সোর্সের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব  হয়। রবিবার (১৬ আগস্ট) খাগড়াছড়ি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোরশেদুল আলমের আমলি আদালতে হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী নিপুন ত্রিপুরা, স্বপন ত্রিপুরা ও নীল ত্রিপুরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সুমন ত্রিপুরা ও শান্তি ত্রিপুরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। আসামিদের মধ্যে নিপুন ছাড়া অন্যরা সবাই দিনমজুর। নিহত ডাক্তার টিপু বিবাহিত ছিলেন। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর খুন হওয়ার মাস খানেক আগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তার ৪ বছরের এক কন্যাও রয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ