এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ২০:০৮

বাংলা

 

গদ্যাংশ

 

উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন

১.নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :                                                                      

গাহি সাম্যের গান-

যেখানে আসিয়া এক হ’য়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,

যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসিলম-ক্রীশ্চান।

গাহি সাম্যের গান!

কে তুমি?(পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো?

কন্ফুসিয়াস? চার্বাক-চেলা? ব’লে যাও, বলো আরো!

ক. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?                                                                                  ১

খ.‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে তথাকথিত ‘ছোটলোক’ সমপ্রদায় বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।                   ২

গ.উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।          ৩

ঘ.উদ্দীপকটি ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব বহন করে না- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৪

ক.‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘নজরুল রচনাবলী’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

খ. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে তথাকথিত ছোটলোক সমপ্রদায় বলতে অবহেলিত,অনাদৃত, বঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল লোকদেরকে বোঝানো হয়েছে।

আমাদের সমাজের উঁচু শ্রেণির লোকেরা তাদের এ নামকরণ করেন। তাদেরকে সবসময় ঘৃণা ও অবহেলার চোখে দেখেন। অথচ এ মানুষদের মন স্বচ্ছ এবং উদার। তাদের শ্রম ব্যতীত দেশের কোনো কল্যাণকর কাজ সাধিত হয় না। তাদেরকে বাদ দিয়ে দেশে গণতন্ত্র গঠিত হতে পারে না।

গ. উদ্দীপকে ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের অসামপ্রদায়িকতা ও সাম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে সাম্যবাদী ও অসামপ্রদায়িক মনোভাব নিয়ে বঞ্চিতদের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, দেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চাইলে ছোট-বড়, উঁচু-নিচু, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ দূর করা খুবই দরকার।

উদ্দীপকে সাম্যের গান গাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের লোক এক হয়ে গেলে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকবে না। একজন লোক কোন শ্রেণির, কোন ধর্মের বা কোন জাতির তা এখানে বড় হয়ে ওঠেনি। এখানে ব্যক্তির বিশেষ পরিচয়কেও প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। শুধু দেখানো হয়েছে সাম্যের জয় আর অসামপ্রদায়িক মনোভাব। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধেও আমরা নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার এক চমত্কার চিত্র দেখি। তাঁর দৃষ্টিতে সমাজের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবাই সমান। জাতি-ধর্ম-বর্ণে কোনো বিভেদ তিনি মানেন না। যারা সমাজে একটু নিচু অবস্থানে আছে তাদের কায়িক শ্রমেই উঁচু শ্রেণির লোকেরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটায়। তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের ফল ভোগ করে সমাজের তথাকথিত সেই ভদ্রলোকগুলো। এ পরিশ্রমী লোকেরা যখন নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হয়, তখন এ ভদ্র সমপ্রদায় এদেরকে আঘাত করে, নিষ্পেষিত করে দিতে চায়। লেখক সমাজের এ বঞ্চিত লোকদেরকে ঘৃণা না করার আহ্বান জানান। অর্থাত্ আলোচ্য প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো সাম্যবাদী ও অসামপ্রদায়িক মানসিকতা বর্ণনায়।

ঘ. ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে আলোচিত নানা বিষয়ের মধ্যে উদ্দীপকে শুধু অসামপ্রদায়িকতা ও সাম্যের দিকটি ফুটে ওঠায় উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাব বহন করে না। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধে লেখক আমাদের দেশের শক্তির বড় একটি অংশের কথা তুলে ধরেছেন, যারা সমাজের ভদ্র সমপ্রদায় কর্তৃক সর্বদা অবহেলিত। এদের অধিকার সম্পর্কিত কথা এবং এদেরকে জাগিয়ে তোলার কথা প্রবন্ধে স্থান পেয়েছে। আরও বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি তাদেরকে আপন করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে            উদ্দীপকের কবিতাংশটুকুতে সাম্যের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। পাশাপাশি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে অসামপ্রদায়িকতার কথা। এখানে সব মানুষকে একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অর্থাত্ মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হতে পারে, কিন্তু হূদয়ের দিক থেকে আর মানুষ হিসেবে সবাই এক। ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবের সঙ্গে এখানে উদ্দীপকের মিল বিদ্যমান। প্রবন্ধে লেখক তথাকথিত ভদ্র সমপ্রদায়ের কঠিন সমালোচনা করেছেন। অর্থাত্ তারা যে সমাজের মূল শক্তির উত্স শ্রমিক শ্রেণির লোকদেরকে উপেক্ষা করে এর বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রবন্ধে লেখক এ উপেক্ষিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। এ শক্তিকে জাগাতে না পারলে, এঁদেরকে দূরে ঠেলে দিলে জাতি উন্নতির বদলে অবনতির দিকে ধাবিত হবে। আর তাই তিনি এঁদের হাত ধরে উপরে তোলার ও এঁদেরকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। উপরিউক্ত বর্ণনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রবন্ধটির সাম্যবাদী ও অসামপ্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থিত থাকলেও আরও কয়েকটি দিক অনুপস্থিত। আর তাই উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সমগ্র ভাব বহন করে না।