ব্রহ্মপুত্রে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে গাইবান্ধার গোঘাট গ্রাম

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ২১:১৪

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে ভাঙনে এ গ্রামের ২০৫টি ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরো শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকিতে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ গাছ কেটে নিচ্ছেন, কেউবা নদ থেকে দূরে নতুন করে একচালা ঘর তুলছেন। এ সময় গোঘাট গ্রামের কৃষক আজিজার মিয়া বলেন, সাত দিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে আমার চারটি টিনের ঘর, বসতভিটা ও ছয়বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। যেভাবে প্রতিদিন ভাঙছে, এভাবে ভাঙতে থাকলে অল্পদিনের মধ্যে পুরো গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একই গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের বলেন, সাত দিনের ব্যবধানে আমার পাঁচ বিঘা জমির ভুট্টা নদীতে চলে গেছে। একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে নদীভাঙনের ভয়। খুব বিপদে আছি। একই গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক অমুল্য চন্দ্র সাহার পাঁচটি ঘর নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব। তার মতো এরকম আরো অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। কামারজানি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ছয়-সাত ফুট পরিমাণ এলাকা ভাঙছে। এরই মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে প্রায় আড়াইশ বছরের দুর্গা মন্দির ও ২০৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, গোঘাট গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বালুর বস্তা স্থাপন করে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া কামারজানির গোঘাট থেকে সংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর, লালচামার, কাপাসিয়া ও ছয়ঘড়িয়া পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন ঠেকাতে সিসি ব্লক দিয়ে তীর সংরক্ষণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। কাজ শুরু হলে গোঘাটসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।