গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি মার্কিন ডলারের। এ তথ্য ইতিমধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যরো প্রকাশ করেছে। নতুন করে গতকাল সেবা রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইপিবির হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছর সেবা রপ্তানি হয়েছে ৬১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলারের, যা পূর্বের (২০১৮-১৯) অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ কম। সবমিলিয়ে গত অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ (পণ্য ও সেবা) দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। সেই হিসেবে আলোচ্য অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। আলোচ্য অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের।
মূলত গত মার্চ থেকে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে অর্থনীতির গতি কমতে থাকে। এক এপ্রিলে এসে তা মারাত্মক রূপ নেয়। তবে মে থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে থাকে। এ কারণেই রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর ধাক্কা লেগেছে সেবা রপ্তানিতে। এখনো আমদানি-রপ্তানিতে স্বাভাবিক গতি ফেরেনি। কবে নাগাদ অর্থনীতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনি অনুমান করা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে সরকার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। করোনা ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকেই মাত্রাতিরিক্ত মনে করলেও সরকার মনে করছে, এটি অর্জনযোগ্য। রপ্তানিকারকদেরও অনেকেই মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮৫০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সেবা রপ্তানি হয়েছে ৬১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলারের। পূর্বের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সেবা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৪৯ কোটি ২৭ লাখ ডলারের। গত অর্থবছর রপ্তানি সেবা রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
সেবা রপ্তানির তালিকায় রয়েছে মেনটেনেন্স ও রিপেয়ার, পরিবহন, ভ্রমণ, নির্মাণসেবা, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যসেবা, অন্যান্য ব্যবসাসংক্রান্ত সেবা, ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনসংক্রান্ত সেবা ছাড়াও রয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব সেবার প্রায় সব খাতেই গত বছর রপ্তানি কমেছে।
