বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চারটি নাশকতার মামলার কার্যক্রম স্থগিতই থাকছে। মামলার কার্যক্রমের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। একইসঙ্গে মামলা বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল হাইকোর্টে শুনানির জন্য পক্ষগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন।
আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ইত্তেফাককে বলেন, নাশকতার এসব মামলার এজাহারে খালেদা জিয়ার নাম ছিল না। অভিযোগপত্রে তাকে হুকুমের আসামি করা হয়। পরে খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট। ঐ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
২০১৫ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঐ অগ্নিসংযোগের ফলে গাড়ির ভেতর পুড়ে মারা যায় অনেক মানুষ। এ ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও দারুসসালাম থানায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে এক ডজন মামলা করা হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় করা একটি এবং দারুসসালাম থানার তিনটি মামলায় খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ঐ অভিযোগ দাখিল ও আমলে নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে বাতিল আবেদন করে তিনি। আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। রুলে অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। গতকাল ঐ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের পক্ষে আইনজীবী এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল ও সাকিব মাহবুব শুনানি করেন।
