মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়েছে

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৩

দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ১৬৩তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্ত বেড়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জন মারা গেছেন। রবিবারের চেয়ে গতকাল পাঁচ জন বেশি মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ৬৯৪ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। ৫ আগস্ট থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৫২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৯৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রবিবারের চেয়ে গতকাল ৫৭১ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন। রবিবার ১০ হাজার ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৪১ জন। রবিবারের চেয়ে ৩২৬ জন বেশি সুস্থ হয়েছেন। রবিবার সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৩১৫ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ জন। গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৮৩৬ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৬৩৬ জনের। রবিবারের চেয়ে গতকাল ৩ হাজার ২০০টি নমুনা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ৫২৩ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১০ হাজার ১৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার ৫০৫টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের ২৮ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। ৩১ জন হাসপাতালে এবং ছয় জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। আট জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, আট জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তিন জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল। ২০ জন ঢাকা বিভাগের, চার জন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিন জন রাজশাহী বিভাগের, ছয় জন খুলনা বিভাগের, এক জন বরিশাল বিভাগের, তিন জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৩ হাজার ৬৯৪ জনের মধ্যে ২ হাজার ৯১৮ জন পুরুষ এবং ৭৭৬ জন নারী। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭৭২ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ৪০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫০৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৩৪ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৯১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩৪ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৮ জন ঢাকা বিভাগের, ৮৪১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২৪৩ জন রাজশাহী বিভাগের, ২৯৫ জন খুলনা বিভাগের, ১৪২ জন বরিশাল বিভাগের, ১৭৪ জন সিলেট বিভাগের, ১৫১ জন রংপুর বিভাগের এবং ৮০ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৬৪০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২০ হাজার ১০১ জন। আইসোলেশন থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৮ জন এবং এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬১১ জন ছাড় পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৬২ হাজার ৭১২ জনকে। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে ১ হাজার ৮৭১ জনকে। কোয়ারেন্টাইন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৩১ জন এবং এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ১৬ হাজার ৫০৬ জন ছাড়া পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩১২ জনকে। বর্তমানে  কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৮০৬ জন।