দুই এমপির পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১৯:০৮

জাতীয় সংসদের দুইজন এমপির পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। ওই দু’জন হলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির এমপি হারুন-অর রশীদ। হাইকোর্ট তাদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে সংসদীয় আসন কেন শূণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ওই দুই এমপিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

শুল্ক ফাঁকির মামলায় এমপি হারুনের ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত। অপরদিকে পাপুল তার নির্বাচনী হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দাখিল করেন। এমতাবস্থায় তাদের এমপি পদে থাকা নিয়ে বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দাখিল করা হয়।

এমপি হারুনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ রিট দাখিল করেন ওই আসনের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ। রিটে বলা হয়, ২০০৫ সালে এমপি থাকাবস্থায় শুল্কমুক্ত কোটায় গাড়ি এনে তা বিক্রির অভিযোগে দুদকের মামলায় ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর এমপি হারুনকে ৫ বছর দন্ড দেয় ঢাকার বিশেষ আদালত-৪। দন্ডিত হওয়ায় সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আর এমপি পদে থাকার সুযোগ নাই। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “তিনি নৈতিক স্থলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে”। যেহেতু এমপি হারুন দুই বছরের বেশি দন্ডপ্রাপ্ত সেহেতু তিনি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী দেওয়ান মো. আবু ওবায়েদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পর সেই রায়ের অনুলিপি সংসদ সচিবালয়ের সচিব বরাবরে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় লিগ্যাল নোটিশ দেই। নোটিশের জবাব না পেয়ে এ রিট করা হয়। 

তিনি বলেন, শুনানিতে আমাদের বক্তব্যে সন্তুষ্টু হয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রুলে এমপি হারুনের সংসদ সদস্য পদ কেন শূণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তার কার্যক্রম কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

প্রসঙ্গত এমপি হারুন নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ ওই জামিন বহাল রাখে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন হারুন।

এমপি পাপুল মানবপাঁচার, অর্থ পাঁচারসহ নানা অভিযোগে কুয়েতের কারাগারে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাপুল প্রতারণা, জালিয়াতি করে শুধু অবৈধ সম্পদই অর্জন করেননি। তিনি জালিয়াতি করে ভুয়া শিক্ষাগত সনদও জোগাড় করেছেন। তিনি সিয়েরা লিয়নের মিলটন মরগাই কলেজ অব এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনমিক্স বিষয়ে স্নাতক সনদ সংগ্রহ করেছেন। শিক্ষাবর্ষ ১৯৮৭। 

ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, পাপুল যে বিষয়ের ওপর স্নাতক সনদ জোগাড় করেছেন কলেজটিতে ওই বিষয়ের ওপর কোনো ডিপার্টমেন্ট নেই। নির্বাচনী হলফনামায় এই মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফয়েজ ভুইয়া। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী শেখ আওসাফুর রহমান ও মো.সালাহ উদ্দিন শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পাপলুকে এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করে তার আসন কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

আইনজীবী সালাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচনী হলফনামায় তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ১২(সি) এর লংঘন। সেজন্য তিনি আর এমপি পদে থাকতে পারেন না।

ইত্তেফাক/কেকে