কাশীনাথ মজুমদার পিংকু, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার হাজার হাজার দিনমজুর বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় পাঁচ মাসের করোনার প্রভাব কাটতে না কাটতেই শুরু হয় বন্যা। দীর্ঘ স্থায়ী বন্যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। নদীতে বাড়ি ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকেই এখনো নিকট আত্মীয় অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। কালিহাতীর পশ্চিমাঞ্চলের পাঁঁচটি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ শ্রমিকশ্রেণির। নিজেদের জমি না থাকায় তারা অন্যের জমিতে অথবা বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বন্যার পানির কারণে বন্ধ রয়েছে এসব এলাকার কৃষিকাজ। অন্যদিকে করোনার কারণে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকেরাও অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসাবাড়িতে কাজ করাচ্ছেন না।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকা পরিণত হয় মৌসুমী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে। সেখানে অস্থায়ীভাবে নানা ধরনের খাবার ও খেলনার দোকান দিয়ে বছরের তিন চার মাস খাবারের জোগাড় করেন অনেক দিনমজুর। এ বছর করোনার কারণে সেখানেও অন্য বছরের মতো পর্যটকদের আনাগোনা নেই। তাই বেকার হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ। মাটিকাটা শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি করুণ। প্রতিদিন ভোর থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকছেন তারা। কোনো কাজ না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের। দিনের পর দিন কর্মহীন থাকার কারণে অনেকে পেশা পরিবর্তন করছেন। অনেকে শহরে গিয়ে রিকশা অথবা অটো চালাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে অস্থায়ী হওয়ার কারণে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। একই অবস্থা বল্লা ও এলেঙ্গাতে কর্মরত তাঁত শ্রমিকদের। করোনার প্রভাবে তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংসের মুখে। তাই তারাও অন্য পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গোহালিয়াবাড়ীর মাটি কাটা শ্রমিক মো. সিদ্দিক মিয়া বলেন, আমরা এক বেলা মাটি কাটতাম ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা দরে । বর্তমানে পাওয়া যায় ২০০ টাকা। তাও সপ্তাহে দুই-এক দিনের বেশি কাজ পাওয়া যায় না। তাই এখন আমি এলেঙ্গাতে অটো চালাই। একই অবস্থা সরাতৈল গ্রামের নারীশ্রমিক মোছাম্মত্ রেণু আক্তারের। টাঙ্গাইল শহরে একটি বাসায় ঝিঁয়ের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। প্রায় ছয় মাস হলো গ্রামে এসে পরিবার নিয়ে তিনি অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে বলেও জানান তিনি। দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. অনোয়ার হোসেন প্রামাণিক বলেন, আমরা সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করে যাচ্ছি। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সাহায্যের পরিমাণ অপ্রতুল। যমুনার চরাঞ্চলের বানভাসি মানুষদের ত্রাণ ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা তানজিন অন্তরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে সরকারি নির্দেশনা পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
