যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ক্লিনিকের বর্জ্য

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৩১

বেগমগঞ্জে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

চৌমুহনী শহরসহ বেগমগঞ্জের যত্রতত্র নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্যাথলজি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অধিকাংশ ক্লিনিকের বর্জ্য ধ্বংস করার নিজস্ব ব্যবস্থা না থাকায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। নালা ডোবা, খাল এমনকি রাস্তার পাশে ফেলে রাখা এসব থেকে ছড়াচ্ছে নানান রোগ ব্যাধি।

চৌমুহনী শহরসহ বেগমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, টেকনিশিয়ান ও ডাক্তার ছাড়াই চলছে প্যাথলজি ক্লিনিক।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, একটি প্যাথলজি ক্লিনিকের অনুমোদন নিতে হলে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট, বিএসসি ইন মাইক্রোবায়োলজিস্ট যোগ্যতার বায়োকেমিস্ট থাকতে হবে। এক্স-রে বিভাগে ডিল্পোমাধারী এক্স-রে রিপোর্ট করতে বিশেষজ্ঞ রেডিওলজিস্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ধ্বংস করার জন্য বিন-ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিজস্ব বিন-ব্যবস্থা না থাকলে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বর্জ্য ধ্বংস করতে হবে। আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য প্রয়োজনীয় ডিগ্রিধারী হতে হবে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে গ্রামেগঞ্জে, হাটবাজারে প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি এবং এসব সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া প্যাথলজি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস জানান, যেভাবে প্যাথলজি ক্লিনিকগুলো চলছে, তা কারো কাম্য নয়। বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত প্যাথলজি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা রয়েছে। এর বাইরেও অনেক ক্লিনিক রয়েছে। অধিকাংশের রয়েছে দক্ষ লোকবল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব। বিশেষ করে বর্জ্য ধ্বংস করার কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো পরিবেশের ছাড়পত্র। জেলা সিভিল সার্জন ব্যাপারটি নিয়ে তদারকি করে থাকেন।

নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাছুম ইফতেখার জানান, প্যাথলজি ক্লিনিকগুলো যেভাবে অনিয়মের মধ্যে চলছে, তা চলতে দেওয়া যায় না। অচিরেই অভিযান পরিচালনা করে নিয়মবহির্ভূত ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।