সারা দেশে ৪৫ হাজার হেক্টরে তুলা চাষের কর্মসূচি
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
চলতি মৌসুমে (২০২০-২১) সারা দেশে ৪৫ হাজার হেক্টরে সমভূমি ও পাহাড়ি জাতের তুলা চাষ করে ১ লাখ ৮০ হাজার ২২০ বেল তুলা উত্পাদনের কর্মসূচি নিয়েছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। দেশে গার্মেন্টস শিল্পের ক্রমবিকাশ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে তুলার চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে তুলার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ বেল। দেশে উত্পাদিত তুলায় চাহিদর মাত্র ২ দশমিক ২২ শতাংশ পূরণ হয়ে থাকে। বাকি তুলা আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা হয়ে থাকে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার যশোর জোনে ৩ হাজার ২০০ হেক্টরে তুলা চাষ করে ১৯ হাজার ৭৬৩ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জোনে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলা উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৬ হাজার ৫৫৬ বেল। রাজশাহী জোনে ২ হাজার ২০০ হেক্টরে তুলা চাষ করে ১৩ হাজার ৫৮৭ বেল তুলা উত্পদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জোনে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৫৫৬ বেল। বগুড়া জোনে ২ হাজার হেক্টরে তুলা চাষ করে ১২ হাজার ৩৫২ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। রংপুর জোনে ২ হাজার ২০০ হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৮৭ বেল। কুষ্টিয়া জোনে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টরে তুলা চাষ করে ২৬ হাজার ৫৫৬ বেল তুলা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁ জোনে ১ হাজার ২০০ হেক্টরে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭ হাজার ৪১১ বেল। ঢাকা জোনে তুলা চাষ করা হবে ১ হাজার ৪০০ হেক্টরে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬৪৬ বেল। ময়মনসিংহ জোনে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টরে। তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ১১৬ বেল। পাহাড়ি তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ৬০০ হেক্টরে সমভূমির তুলা চাষ করা হবে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭০৫ বেল। এ ছাড়াও ৩ পার্বত্য জেলায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টরে পাহাড়ি জাতের তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। পাহাড়ি তুলার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৮৫ বেল। তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, গত মৌসুমে ২৭ হাজার ২৫০ হেক্টরে সমভূমি ও ১৭ হাজার ১৮০ হেক্টরে পাহাড়ি জাতের তুলা চাষ করা হয়েছিল। তুলার মোট উত্পাদন হয়েছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮৭ বেল। গত বছর প্রতি মণ বীজ তুলার দাম ধার্য করা হয়েছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। প্রাইভেট জিনিং কোম্পানিগুলো তুলার ক্রেতা। করোনার কারণে চাষিদের কাছ থেকে কেনা তুলার দাম পরিশোধ করতে তারা বিলম্ব করে।
বহু বছর আগে থেকে বাংলাদেশে কার্পাস তুলা চাষ হতো। ঢাকার আশপাশের এলাকাতে এ তুলার চাষ হতো। বিশ্বখ্যাত ঢাকাই মসলিন এ তুলা দিয়ে তৈরি হতো। দেশে উত্পাদিত তুলা দিয়ে সুতা তৈরি করে দেশের তাঁতিরা কাপড় বুনত। তা দিয়ে কাপড়ের চাহিদা মিটতো বলে জানা যায়। ব্রিটিশ আমলে এ দেশ থেকে তুলা চাষ তুলে দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীনের পর তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। নতুন করে তুলা চাষ শুরু হয়। দেশে সিংহভাগ তুলা পশ্চিমের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলায় চাষ হয়ে থাকে। লাভ বেশি পেয়ে চাষিরা তুলা চাষে ঝুঁকে। ১৯৮৭-৮৮ সাল পর্যন্ত তুলা চাষ বাড়তে থাকে। এরপর তুলা চাষে ভাটা পড়ে। ১৯৯৮ সাল থেকে ফের তুলা চাষ বাড়ছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, তুলা চাষ আবহাওয়ার ওপর অনেকটা নির্ভর করে। শুষ্ক আবহাওয়ায় তুলা ভালো হয়। জুলাই-আগস্ট মাসে তুলার বীজ বপন শুরু হয়। এ সময় বেশি বৃষ্টি হলে গাছ মরে যায়। এবছর আবহাওয়া তুলা চাষের প্রতিকূল বলে তিনি জানান। তিনি জানান, বর্তমানে উচ্চফলনশীল জাতের তুলা চাষ হচ্ছে। এ তুলা বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মণ করে ফলন হচ্ছে। লাভ পেয়ে কৃষক তুলা চাষে ফের ঝুঁকছে। তুলা উঁচু জমির ফসল। কিন্তু উঁচু জমিতে সবজি চাষ বেশি হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান, কম জমিতে বেশি ফলনশীল জাতের তুলা উত্পাদনের লক্ষ্য নিয়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।
