করোনা মহামারির পরিবর্তন ঘটছে :বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২১:৫১

রয়টার্স

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে ২০, ৩০ এবং ৪০ বছরের কোটায় থাকা লোকজন এখন বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তর ঘটাচ্ছেন। তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় এদের অনেকেই জানে না যে, তারা করোনায় আক্রান্ত। এজন্য তারা বয়স্ক ব্যক্তিসহ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করেছেন। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তার দিন দিন বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসব তথ্য জানা হয়েছে।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি মাসে বিশ্ব জুড়ে সংক্রমিতদের মধ্যে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে। এটি দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে বৃদ্ধ এবং অসুস্থ লোকজনসহ বিশ্ব জুড়ে জনগোষ্ঠীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশকে বিপদাপন্ন করে তুলেছে। সংস্থাটির পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক তাকেশি কাসাই মঙ্গলবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বলেন, মহামারি পালটে যাচ্ছে। ২০, ৩০ এবং ৪০ বছরের কোটায় থাকা লোকজন ক্রমবর্ধমান হারে করোনার বিস্তার ঘটাচ্ছেন। এটি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে।

তাকেশি কাসাই বলেন, ‘আমরা যা পর্যবেক্ষণ করছি তা শুধু পুনরুত্থানই নয়। বরং আমরা বিশ্বাস করি, এটি এক ধরনের সংকেত যে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহামারি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। তিনি বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং মোকাবিলা কার্যক্রমে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশগুলো জীবন ও অর্থনীতির ওপর এর আঘাত হ্রাস করতে সক্ষম।’ বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের জিনগত রূপান্তর ঘটলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে ‘অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল’ হিসেবে দেখছে।

রয়টার্সের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাসের উত্পত্তি হওয়ার পর বিশ্ব জুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন দুই কোটিরও বেশি মানুষ এবং মারা গেছেন ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। করোনার নতুন করে উত্থানের খবর ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ডসহ এমন কিছু দেশ থেকে এসেছে, যারা প্রথম দফায় ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল বলে মনে করা হয়। আগ্রাসি পরীক্ষা এবং আইসোলেশন ব্যবস্থার কারণে তিন মাস পর ভিয়েতনামে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ১০২ দিন পর নিউজিল্যান্ডেও স্থানীয়ভাবে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের নতুন উত্থান দেখা দেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিকে তছনছ করে দেওয়া এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিভিন্ন কোম্পানি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজনীয় সব গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক নীতি-নৈতিকতা মেনে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।