ইয়াবা কারবারি কক্সবাজার আদালতের মুহুরি ও লবণ ব্যবসায়ী!

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২২:১৭

রাজধানীতে চালান হস্তান্তরের নিরাপদ স্থান হোটেল

পিনাকি দাসগুপ্ত

লকডাউন উঠে যাবার পর থেকেই কক্সবাজার থেকে ইয়াবার সরবরাহ বেড়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা সরবরাহ করে কক্সবাজার আদালতের মুহুরি ইলিয়াস হোসেন। আর ঢাকায় ইয়াবার চালান হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকার একাধিক খাবার হোটেলে। এসব হোটেলে খাবারের আড়ালে হস্তান্তর করা হয় ইয়াবার চালান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবার চালান বহনকারী জসিম উদ্দিন দিদার। পাশাপাশি গতকাল জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সোমবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন একটি হোটেল থেকে দিদার, তার স্ত্রী সেতারা বেগম সেতু ও তাদের সহযোগী বিউটি বেগমকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারী ডিবির উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহিদুল ইসলাম বলেন, জসিম ও সেতারার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে, থাকেন চট্টগ্রামে। স্বামী-স্ত্রী ইয়াবা বহনকারী। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বর্তমানে কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান পাঠায় ইয়াবার ব্যবসায়ী কক্সবাজার আদালতের মুহুরি ইলিয়াস হোসেন ও লবণ ব্যবসায়ী আহাদ। ইয়াবার চালান বড় হলে পাঠায় লবণের ট্রাকে করে।

আর ইয়াবার চালান ঢাকায় পৌঁছার পর জসিম ও তার স্ত্রী সেগুলো সংগ্রহ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীকে সরবরাহ করতেন। ইয়াবার ছোট চালান হলে দিদার ও তার স্ত্রী নিজেরাই বহন করে ঢাকায় নিয়ে আসতেন। ইয়াবার চালান ঢাকায় পৌঁছার পর তা হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন একাধিক হোটেলে। শুধু তারা নয়, তাদের মতো যারা ইয়াবার চালান ঢাকায় আনে তাদের সিংহভাগই এসব হোটেলে আসে। কারণ এসব হোটেলে হাসপাতালে আহত রোগীর স্বজন বা ভিজিটরদের কারণে সব সময় ভরপুর থাকে। ফলে খাওয়ার দাওয়ার সুযোগে তারা ইয়াবার চালান হস্তাস্তর করে। এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত বিউটি বেগম নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রোতাদের কাছে ইয়াবা সরবরাহ করে। এছাড়া তারা জানিয়েছে, রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার জনৈক নুরু এবং গাজীপুরের সরবরাহ করত জাবেদ, তাদের কাছ থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে।

ডিবির সহকারী পুলিশ শাহিদুল ইসলাম বলেন, দিদার ও তার স্ত্রী জানিয়েছে, প্রতি চালানে তারা নির্ধারিত টাকা পেত। সম্প্রতি লবণ ব্যবসায়ী আহাদ গ্রেফতার হয়েছে। কক্সবাজারের মুহুরি ইলিয়াস ও তার অপর সহযোগীদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত দিদার গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দিকে সেতারা বেগম ও বিউটি বেগমকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছ। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।