গভীর সমুদ্র থেকে টুনা মাছ আহরণের উদ্যোগ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২২:৩৮

গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এজন্য একটি পাইলট প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সারা বিশ্বে জনপ্রিয় ও চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই মাছ আহরণ করতে পারছে না বাংলাদেশের জেলেরা। যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব আর গভীর সমুদ্রে গমন উপযোগী মাছ ধরার জাহাজ না থাকায় এ মাছ ধরতে পারছে না দেশের জেলেরা। এজন্য ৬১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে পাইলট প্রকল্প গতকাল মঙ্গলবার একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন            করবে মত্স্য অধিদপ্তর।

প্রকল্পটির মাধ্যমে গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনাহরিত টুনা ও সমজাতীয় মত্স্য আহরণের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা হবে। সেসঙ্গে গভীর সমুদ্র থেকে টুনা ও সমজাতীয় মত্স্য আহরণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। টুনা মাছ আহরণে বেসরকারি বিনিয়োগ উত্সাহিত করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গতকাল মঙ্গলবার একনেক বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, সরকার চাইছে গভীর সমুদ্রে মত্স্য আহরণে জেলেদের উদ্বুদ্ধ করতে। সারা বিশ্বে টুনা মাছ খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু আমাদের সমুদ্রসীমায় এ ধরনের মাছ আহরণ করা হয় না।

উল্লেখ্য, সামুদ্রিক মাছের মধ্যে লাক্ষা, সার্ডিন, পোয়া, লটিয়া, ফলি চান্দা, হরিণা চিংড়ি ও কাটা প্রজাতির মাছের মজুত দিন দিন কমে আসছে। আগে দুই-চার ঘণ্টার দূরত্বে মাছ পাওয়া গেলেও এখন এক-দুই দিনের দূরত্বে গিয়ে মাছ ধরতে হয়। কিন্তু মত্স্য আহরণে আধুনিক প্রযুক্তির জাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে না।

মত্স্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টুনা ও সমজাতীয় মত্স্য আহরণে বেসরকারি বিনিয়োগ উত্সাহিত করা হবে। পাইলট প্রকল্পটি চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির আওতায় তিনটি লং লাইনার প্রকৃতির ফিসিং ভেসেল ক্রয় ও পরিচালনা করা হবে। সেসঙ্গে গভীর সমুদ্রে মত্স্য আহরণের কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।