সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে

এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বাতিলের প্রস্তাব

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ২২:৪৮

চলতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী না নিয়ে নিজ নিজ স্কুলে মূল্যায়নের পর পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীতের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এবার মেধাবৃত্তি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এমন প্রস্তাব সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।

ঐ সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২০ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নিয়ে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীতকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। এছাড়া ২০২০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা  না হলে সমাপনী পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রদেয় মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান সম্ভব হবে না। তবে উপবৃত্তির কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের পরীক্ষা গ্রহণ না করা সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রাথমিক সমাপনী না হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলা হয়, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি কর্তৃক প্রণীত সংশোধিত পাঠ       পরিকল্পনা অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নিতে হলে আরো প্রায় ৫০ কার্যদিবস পাঠদান প্রয়োজন। সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যালয় খোলা না গেলে যে কার্যদিবস পাওয়া যাবে তাতে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণির অবশিষ্ট পাঠদান সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ঐ সারসংক্ষেপে বলা হয়,  বছরের শুরুতে পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১ জানুয়ারি ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩১ কর্মদিবস নির্ধারণ করা হয়। ১৬ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক ৩০-৩৫ শতাংশ পাঠদান করা সম্ভব হয়েছে।

বলা হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ আছে। এটির মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এতে মোট ৭১ কার্যদিবস বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে এবং পঞ্চম শ্রেণির ৪০৬টি স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হবে না। তবে সংসদ টেলিভিশনে ঘরে বসে শিখি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু সব শিক্ষার্থীর বাসায় টেলিভিশন না থাকায় এবং টেলিভিশন থাকলেও অধিকাংশ বাসায় ক্যাবল সংযোগ না থাকায় সব শিক্ষার্থীকে এ প্রোগ্রামের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপ অনুয়ায়ী পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। সে বিবেচনায় ১২ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ বেতারে বিকাল ৪টা ৫ মি. থেকে ৫০ মিনিটের জন্য ঘরে বসে শিখি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হয়েছে যা পঞ্চম শ্রেণির ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল এবং রেডিওর মাধ্যমে পৌঁছতে সম্ভব হবে।

এই মুহূর্তে স্কুল খুলে দেওয়া হলে বৈষম্য বাড়বে উল্লেখ করে সারসংক্ষেপে বলা হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু কিছু দেশে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খুলেছে। তবে কোনো কোনো দেশে যেমন- জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদ্যালয় খুললেও সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তাত্ক্ষণিক ভাবে বিদ্যালয় আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে এখনোও বিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হলেও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে নাও পাঠাতে পারেন। এতে করে যারা বিদ্যালয়ে যাবে এবং যারা যাবে না তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সূত্র জানায়, একই বৈঠকে চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।