নারীর গর্ভপাত নিয়ে দণ্ডবিধির পাঁচটি ধারা (৩১২ থেকে ৩১৬ ধারা) কেন বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত দণ্ডবিধির এই পাঁচটি ধারায় নারীর গর্ভপাত নিয়ে সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থদণ্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্রিটিশরা এই আইন করলেও তারা ১৯৬৭ সালে তাদের আইনে পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই আইন সংশোধন করা হয়নি বলে জানান রিটকারী আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন।
তিনি বলেন, যিনি মা হচ্ছেন এখানে তার কোনো অধিকার নেই। তার কোনো পছন্দ নেই। তিনি নিজের মত অনুসারে গর্ভপাত করাতে পারছেন না। কারণ গর্ভপাত করালে আইনে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার কথা আছে। যেমন এক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলো। সে তো আর বাচ্চাটা চাচ্ছে না। আবার হাসপাতালগুলো আইনের কারণে গর্ভপাতও করতে চাচ্ছে না। তাহলে সে কি করবে। এছাড়া অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভধারণ করলে সেখানেও গর্ভপাতের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এটা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
