তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক

বন্যায় ধসে গেছে ২২০ মিটার

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২১:৩৫

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

সম্প্রতি বন্যায় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাহিরপুর হতে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সেতুর পূর্ব পাশে ২২০ মিটার সড়ক ধসে পড়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলা সদরে যাতায়াত করতে গিয়ে উপজেলাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, সড়কের ঐ ভাঙা অংশের জন্য দুই বছর ধরে লোকজন বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এর আগে বন্যায় সড়কের ঐ স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। এবার মার্চ মাসে সেখানে কিছু সংস্কার কাজ হয়েছে। ঠিকাদার পাকা ব্লক দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম দফা বন্যার সময় সেগুলো ঢলের পানির তোড়ে স্থানচ্যুত হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের। এ কারণে এই স্থান দিয়ে এখন পানি নেমে গেলেও কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের এই ২২০ মিটার অংশ মেরামত না করায় জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে তাহিরপুর উপজেলা সদর। অটোরিকশা চালক মোসাদ্দেক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই মাস ধরে সড়ক বন্ধ। আমাদের আয় রোজগার কমে গেছে। মানুষজনও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এক মাস তো খেয়া নৌকায় পারাপার হয়েছে লোকজন। এখন পানি কমলেও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের দুরবস্থার কারণে শুধু এই উপজেলার মানুষ নয়, হাওর দেখতে আসা পর্যটকেরাও দুর্ভোগে পড়ছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। সর্বশেষ আমাকে বলা হয়েছে, এ মাসেই কাজ শুরু হবে। এবার শুকনো মৌসুমেই কাজ শেষ হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, বন্যার কারণেই সড়কের সংস্কার কাজে সমস্যা হয়েছে। না হলে এতদিনে কাজ শেষ হয়ে যেত। সড়কের ঐ অংশের জন্য মানুষ অনেকদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আবার কাজ শুরু হবে।