সিংগাইরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয়
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
বাজারে ধানের দাম বেশি, সরকারিভাবে কম। তাই সরকারকে ধান দিচ্ছে না মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষক। এতে সরকারিভাবে ধান কেনা স্থবির হয়ে পড়ছে। সমস্যা দেখা দিয়েছে সরকারের ধান চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া নিয়ে। জানা গেছে, যখন ধানের দাম কম ছিল তখন খাদ্য বিভাগ ধান কেনা শুরু করেনি। এখন সরকারের নির্ধারিত মূল্য থেকে হাটবাজারে ধানের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা খাদ্য বিভাগের কাছে ধান দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৬৫৭ টন ধান ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ৬৩৪ টন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে খামখেয়ালীর কারণে এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখানে গত জুন মাস থেকে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় এবং চুক্তিবদ্ধ এক মিলারের কাছ থেকে ২৪০ টন চাল ক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত ১৭৪ টন ধান (৯ আগস্ট পর্যন্ত) ক্রয় করা হয়েছে। অন্যদিকে মিলার উপজেলা খাদ্যগুদামে ১৮০ টন চাল সরবরাহ করতে পেরেছেন। ধান-চাল সংগ্রহ চলবে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।
জানা গেছে, খাদ্য বিভাগ কৃষকের কাছ থেকে প্রতিমণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে কিনছে। অথচ উপজেলার হাটবাজারে বর্তমানে ধান ভেদে প্রতিমণ বেশি দামে কেনা-বেচা চলছে। একাধিক কৃষক জানান, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে গত বছর অনেক হয়রানি ও সময় অপচয় হয়েছে। হাটবাজারে কোনো হয়রানি ছাড়াই মূল্য বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সে তুলনায় হাটে ধান বিক্রি করা লাভজনক। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতিমণ ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে হলে শুকানোর খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে তারা আগ্রহী নন।
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির বলেন, শুরুতেই কৃষকের তেমন আগ্রহ ছিল না বলে আমরা ধান ক্রয় করতে পারিনি। এছাড়া লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করাটা আমরা এপ্রিল মাসে করতে পারিনি। করতে হয়েছে জুন মাসে। এখন তো সরকারি রেটের চাইতে বাজারে ধানের দাম অনেক বেশি, তাই কৃষক এখানে ধান বিক্রি করছে না। আবার এখানে ধান দিলে শুকনো করে দিতে হয় বাজারে তা করতে হয় না। ফলে ঘাটতির চিন্তা করে এখানে ধান বিক্রি করতে চায় না কৃষক। এছাড়া কার্ডধারী কৃষক ছাড়া আমরা ধান ক্রয় করি না। এতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়াটাই স্বাভাবিক।
