বিবিসি
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে বিধিনিষেধ পালনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে সেখানকার জনসমাগমপূর্ণ এলাকা যেমন : জাদুঘর, নাইটক্লাব ও কারাওকে বার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল দেশটিতে ২৯৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। গত মার্চের পর থেকে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দেশটির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। করোনা শুরু হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারলেও বর্তমানে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে একটি গির্জা থেকে বেশি সংক্রমণের কারণে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। নতুন যে কয়জন শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ২৫২ জনই রাজধানীর সিউলের। সারাং জেইল গির্জা থেকে এটি বেশি সংক্রমিত হয় বলে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই গির্জার প্রধান দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের কট্টর সমালোচক। বছরের প্রথম দিকে যে চার্চটি থেকে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল তার নাম শিনচেয়নজি গির্জা। এ স্থানটিকে তখন থেকে সবচেয়ে ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের স্থান বলে বিবেচনা করা হতো। কোরিয়ান সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (কেসিডিসি) জানিয়েছে, আগের সারাং জেইল চার্চে মোট সংক্রমিত হয়েছে ৬২৩ জন। এর মধ্যে ১০ জন গত দুই সপ্তাহে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। এসব স্থানে সামাজিক দূরত্ব তেমন একটা মানা হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি বেশির ভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের হোম অফিস করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল থেকে ১২টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা, যার মধ্যে নাইটক্লাব, কারাওকে বার এবং বুফে রেস্টুরেন্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রাজধানী সিউল, ইনচেয়ন এবং পার্শ্ববর্তী গিয়ংগি প্রদেশে এ নিষেধাজ্ঞা বলবত্ থাকবে। এছাড়া জাদুঘরগুলোও বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে অভ্যন্তরীণ কোনো অনুষ্ঠানে ৫০ জন ও বাইরের কোনো অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
