স্বাধীনতা ঘোষণার পাঠক কখনো ঘোষক হতে পারে না :কাদের

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:০৮

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা ঘোষণার একজন পাঠক কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারে না। জিয়াউর রহমান ইতিহাসের ফুটনোট মাত্র। ফুটনোট কখনো ইতিহাসের নায়ক হতে পারে না।’ গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মতবিনিময় সভায় যুক্ত হন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের রক্তস্রোত ও হত্যাকাণ্ডকে অন্যদিকে ঘোরাতে জজ মিয়া নাটক আপনারাই সাজিয়েছিলেন। আলামত নষ্ট করে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন। ইতিহাস বিকৃত করে নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখাতে চেয়েছেন।’       ওবায়দুল কাদের বলেন, পাঠ্যপুস্তক থেকে বঙ্গবন্ধুকে নির্বাসনে দিয়ে নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শিখতে বাধ্য করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ইতিহাস চলে তার নিজস্ব গতিতে, অপরাধীদের একসময় ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হয়, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। ‘জিয়াউর রহমানকে ছোট করা হচ্ছে’—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের পালটা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বেইমান মুশতাক সরকারের প্রধান সেনাপতি কে হয়েছিলেন? খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে কে চাকরি দিয়েছিল?’

এরপর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা ও করোনা সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রিলিফ কমিটি গঠন করেছিলেন। ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণ কমিটি গঠনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম।’

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আকতার পপি, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, আনিসুর রহমান, কৃষক লীগের সভাপতি সমির চন্দ, সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আবু আহমেদ মন্নাফী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি মাকসুদ কামাল। এ সময় বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নতমানের অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, চিকিত্সকদের ব্যবহূত পিপিই, হাইফো নলেজ ক্যানোলা, উন্নতমানের হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

সভাপতির ভাষণে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, গণমানুষের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের পাশে থাকে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা করোনার ধাক্কা যেভাবে মোকাবিলা করছেন, ঠিক তেমনি ষড়যন্ত্রের ধাক্কা সমানভাবে সামলাচ্ছেন। তিনি বলেন, করোনা, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় দলের ত্রাণ উপকমিটি যেভাবে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়িয়েছে, এর কোনো তুলনা হয় না।

কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তরুণ বয়স থেকে মানুষের দুঃখ-কষ্ট অবসানের জন্য সংগ্রাম করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাক বা না থাক, যে কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আর বিএনপি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি।