সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ১ জানুয়ারি বই উত্সব :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:০৮

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রতি বছর আমরা একটা উত্সবমুখর পরিবেশে বই বিতরণ করি। এ বছরও আমরা সেটি করব। এ জন্য প্রাথমিকের ৭ কোটি ২০ লাখ বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১৩২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তিনি জানান, দরপত্র যাচাই-বাছাই করে ৯৮ লটে এসব বই সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। এরা সবাই দেশীয় প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।       যদি সবকিছু স্বাভাবিক থাকে সে ক্ষেত্রে আগামী ১ জানুয়ারি বই উত্সব পালন করতে চায় সরকার।

গতকাল বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে ১৫০ মেট্রিক টন জ্বালনি তেল আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ৪৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের (৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি) জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের বিনা মূল্যের ৭ কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৩৭৩টি বই সংগ্রহে ব্যয় হবে ১৩২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানির কথা ছিল। যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তাই জি-টু-জি ভিত্তিতে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মেরিন ফুয়েল আমদানি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে ক্রয় কমিটির বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিনটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভুলতা আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ-০২ (লট-১ ও লট-২) এর আওতায় ১৭টি টাগবোট সংগ্রহের লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণের প্রস্তাব এবং নীলফামারী জেলার সাবেক জুট ট্রেডিং করপোরেশন (জেটিসি) বর্তমান বাংলাদেশ জুট করপোরেশন (বিজেসি) (বিলুপ্ত) এর মেসার্স হূদকরণ নামীয় অঙ্গনের শূন্য দশমিক ৯ একর সম্পত্তি ক্রেতা বরাবরে রেজিস্ট্রি দলিল প্রদানের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ভারতের আগরতলার সঙ্গে দ্রুত সময়ে যোগাযোগের জন্য পিপিপি ও জি-টু-জি নীতিমালার আওতায় ‘ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।