খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্প

জমি অধিগ্রহণে নানা অনিয়ম প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:১০

নিয়মনীতির তোয়াক্কা ছাড়াই চলছে খুলনা-মংলা রেললাইন স্থাপনের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা ঠিকভাবে ক্ষতিপূরণ পাননি। একজনের জমি অন্য জনের নামে দেখিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে ক্ষতিপূরণের টাকা। আবার একশ্রেণির জমি অন্য শ্রেণি দেখানোয় ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাননি অনেকে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এসব অভিযোগের পাহাড় জমলেও দীর্ঘদিনেও প্রতিকার মেলেনি। সম্প্রতি বাগেরহাটের ফকিরহাটে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে এই প্রকল্প নিয়ে এমন অসংখ্য অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সূত্র জানায়, বাগেরহাটে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে খুলনা-মংলা রেললাইন স্থাপন প্রকল্পে ২৭৫ দশমিক ২৯৪৪ একর জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়; যা প্রায় শেষের পথে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। একটি চক্র একজনের জমি অন্য জনকে মালিক বানিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনসহ নানা দুর্নীতি করায় ২০১৯ সালের ২০ মে ভূমি মন্ত্রণালয় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখার সার্ভেয়ার কামাল হোসেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। যেসব ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাত্ হয়েছে বা যেসব ভুক্তভোগী অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন, তারা গত তিন বছরেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

সার্ভেয়ার কামাল হোসেন তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পার্সেন্টেজ ছাড়া ডিসি অফিসে কোনো কাজ হয় না। সত্যি বলতে আমি একা নই। এখানে ডিসি অফিসও জড়িত। ডিসি আছেন, এডিসি আছেন,          এলও আছেন—সবাই আছে। আমি একা জড়িত হলে তো ১০০ কোটি টাকার মালিক থাকতাম।’ 

ভুক্তভোগী মো. মোশারেফ মোড়ল বলেন, ফকিরহাট জাড়িয়া বারুইডাঙ্গা মৌজার বিআরএস ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৭, ২২২, ২২৩ দাগের আমার জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সার্ভেয়ার কামাল হোসেন আমার জমিতে থাকা সম্পদের ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তা দিতে অনিহা প্রকাশ করায় ২২৩ দাগে থাকা আমার সম্পদের ক্ষতিপূরণের টাকা জমির মালিক না হয়েও সুরত আলী বিশ্বাস পিতা মৃত সহির উদ্দিন বিশ্বাস সার্ভেয়ার কামাল চক্রের যোগসাজশে তুলে নিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি।

জাড়িয়া মাইট কুমড়া মৌজায় এসএ ১১৬৮/বিআরএস ১৬২৯, এসএ ১১৬৫/বিআরএস ১৬৭১ ও এসএ ১১৬৫/বিআরএস ১৬৬৯, দাগে জমিটি ডাঙ্গা শ্রেণিতে রেকর্ড হয়। সে অনুসারে জমির কর খাজনা দিয়ে আসছেন জমির মালিক ডলি রানী দাশ, আব্দুল সত্তার ও বাশারাত মল্লিক। কিন্তু ঘুষের টাকা দিতে না পারায় পরবর্তীকালে তাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে বিলান শ্রেণির জমির ক্ষতিপূরণের মূল্য। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে সম্পদহারা ভুক্তভোগীদের। 

এ ব্যপারে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা আপত্তি দিয়ে তুলে নিতে বলা হয়েছে ভুক্তভোগীদের। পরবর্তীকালে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ প্রদানে কোনো রকম গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর প্রকৃতপক্ষে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ না পেলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করবেন। জেলা প্রশাসক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’