রিজেন্টের সাহেদকে দুদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:১১

পদ্মা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে প্রথম দিনের রিমান্ডের পর সাহেদ নিজেকে অসুস্থ বলে দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে জানান। এ কারণে গত মঙ্গলবার সকালে           তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। সেখানে দুই দফা ইসিজি, এক্সরে, ডায়াবেটিস চেক, রক্ত পরীক্ষা, হার্টবিট ও প্রেসার চেক করে কোনো রিপোর্টেই কিছু ধরা পড়েনি। সে কারণে পরীক্ষা শেষে চিকিত্সকরা তাকে ছেড়ে দেন। এরপর ঐদিন দুপুর ২টার দিকে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

দুদক সূত্র জানায়, পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দি ফারমার্স ব্যাংক) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৭ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে সাহেদসহ চার জনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের জন্য পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখা থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এমআরআই মেশিন ক্রয়ের জন্য ২ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন মো. সাহেদ। অথচ ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও ক্রেডিট রিক্স গ্রেডিং নিরূপণ না করেই ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. মাহবুবুল হক চিশতী ঋণ অনুমোদন করেন। যা পরবর্তীতে ঐ বছরের ১৫ জানুয়ারির ২১তম সভায় সাহেদের অনুকূলে ২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়। পে-অর্ডারের মাধ্যমে এবং এমআরআই মেশিন ক্রয় করা হয়েছে এমন জাল কাগজপত্র দেখিয়ে ২১ জানুয়ারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা মহিলা শাখার মাধ্যমে ২ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে শর্তানুযায়ী ১ কোটি টাকার এফডিআর করতে হয় সাহেদকে। ঋণ নেওয়ার পর কোনো কিস্তি পরিশোধ না করায় ঋণ হিসাবটি অনিয়মিত হওয়ার কারণে ব্যাংকের নিকট লিয়েন থাকা ঐ এফডিআর থেকে ১ কোটি টাকা সমন্বয় করা হয়। আর বাকি ১ কোটি টাকা অনাদায়ী থেকে যায় বা আত্মসাত্ হয়। যা সুদাসলসহ ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে।

এ মামলায় গত ১০ আগস্ট সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ আবেদন করেন। ঐ দিন আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।