বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুত সমাধানের তাগিদ
২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশটিতে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। ইউরোপের অন্যতম ধনাঢ্য দেশ যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ২০১৮ সালে দেশটি এশিয়ার দেশগুলোতে বিনিয়োগ করেছে ১৮৬ কোটি পাউন্ডের উপরে। এর মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে মাত্র ০.৩৭ শতাংশ। শিল্পোদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যথাযথ নীতিমালা ও কৌশলের অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উচ্চ করহারসহ বেশকিছু কারণকে দায়ী করেছেন তারা। গতকাল বুধবার ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) তারা এসব কথা বলেন। ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন, লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম ছাড়াও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও অর্থনীতিবিদরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। তিনি জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ডলার। অথচ একই সময়ে এশিয়ার দেশগুলোতে সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ হাজার কোটি পাউন্ড।
রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসনও বাংলাদেশে বিনিয়োগ তথা বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু ইস্যু তুলে ধরেছেন। বিশেষত ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও নীতি কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পণ্যের বহুমুখীকরণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সেবা এবং আর্থিক খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে ব্রিটেনে ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, হালাল পণ্য, হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রত্যাশিত আকারে না বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যথাযথ যোগাযোগের অভাবকেও দায়ী করেছেন সাইদা মুনা তাসনিম। তিনি বলেন, ব্রিটিশ বাণিজ্য সংগঠনগুলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খাত বিষয়ে খুব বেশি অবগত নয়। এ অবস্থা উত্তরণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে আরো যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
এ সময় বক্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসায় (ব্রেক্সিট) এবং ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর শুল্কমুক্ত সুবিধার ভবিষ্যত্ কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। ডিসিসিআই সভাপতি বিদ্যমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দীর্ঘ সময়ের জন্য দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ দেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘ইনফ্যাস্ট্রাকচার বন্ড’ চালুর পরামর্শ দেন।
অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শরীফা খান জানান, ব্রিটিশ সরকার ২০২৭ পর্যন্ত বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদান করছে। এছাড়া বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান আবদুুল মোক্তাদির, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সিইও আহসান খান চৌধুরী এবং রহিমআফরোজ স্টোরেজ পাওয়ার বিজনেসের নির্বাহী পরিচালক ফারাজ এ রহিম প্রমুখ।
