শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে :শ্রিংলা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:১৮

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। দ্বিপাক্ষিক এই শক্তিশালী সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। মঙ্গলবার দুই দিনের অনানুষ্ঠানিক সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ঐ দিনই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা পৌঁছে দেন। গতকাল সফরের শেষ দিনে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দুই পররাষ্ট্রসচিবের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তি, সম্পাদক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। বিকেলে তিনি ঢাকা ছেড়ে যান।

দুই পররাষ্ট্রসচিবের বৈঠক শেষে শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, উন্নয়নের জন্য দুই দেশ একসঙ্গে অনেক কাজ করছে, সামনের দিনগুলোতে আরো কাজ করবে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। এই সম্পর্ক বহমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী হবে, যাতে পারস্পরিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশও জনবহুল। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের দুই দেশে করোনায় মৃত্যুর হার কম এবং সুস্থতার হার বেশি। ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিনের উত্পাদক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময় অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরো বলেন, ‘এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাত্ দেওয়ায় আমি খুশি। করোনা-পরবর্তী সময়ে দুই দেশ আরো ঘনিষ্ঠভাবে কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’ প্রসঙ্গত, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণত দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের সাক্ষাত্ দেননি। 

বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, করোনার কারণে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক উন্নত করতে চায়। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এমন বার্তা নিয়েই ঢাকা এসেছেন। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রসচিব শ্রিংলার এই সফরকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। ভারত করোনার টিকা তৈরি করতে পারলে সেটা শুধু ভারতের জন্যই নয়, বাংলাদেশেও দেওয়া হবে। বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ থাকলে সেটা করা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। এছাড়া সম্প্রতি দুই দেশের কিছু নিউজ পোর্টাল, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব খবর আমরা দেখেছি, সে ব্যাপারে আমরা পরস্পরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘দিল্লির বিশেষ বার্তা হচ্ছে, করোনার কারণে কোনো দেশের সঙ্গেই কোনো দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই। তাই তারা (ভারত) বাংলাদেশকে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে যে তিনি এই বার্তা নিয়ে এসেছেন, এই পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের সঙ্গে তারা সম্পর্কটা উন্নত করতে চান। অন্যান্য সময় আমরা যাতায়াত করতাম, কিন্তু বর্তমানে সেটা হচ্ছে না। করোনার সময় এটা তার প্রথম সফর। তিনি আমাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

পররাষ্ট্রসচিব জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পুনরায় চালুর জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি। বিশেষ করে রোগীরা যেন ভারতে চিকিত্সা নিতে পারেন, সেই অনুরোধ জানিয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর চালুর জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি আরো জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে এর আগের প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামনে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক আছে, সেই বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।