শর্তের বেড়াজালে কারিগরি শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি বন্ধ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২০, ২২:২১

অপ্রয়োজনীয় ও অবাস্তব শর্ত আরোপ করে এমপিওভুক্ত ৪৮৩ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন এমপিওভুক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা সময়মতো গত দুই ঈদের আগেই বেতন-ভাতা পেলেও কারিগরি শিক্ষক কর্মচারীদের কপালে দুটি ঈদে জোটেনি কোনো বেতন-ভাতা।

গত ৩০ এপ্রিল নতুন এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ২৬৩টি বিএম কলেজ, ৬০টি কৃষি ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠান এবং ১৬০টি ভোকেশনাল রয়েছে।

তবে আশার কথা শোনালেন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের নতুন সচিব আমিনুল ইসলাম। তিনি গতকাল ইত্তেফাককে বলেছেন, কিছু জটিলতা ছিল এটা ঠিক। তবে সামগ্রিক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় শর্তে কেউ যাতে বঞ্চিত না হয় সেটি লক্ষ্য রেখে কাজ করা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী এক দেড় মাসের মধ্যে প্রকৃত প্রাপ্য সবাই বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন। তিনি বলেন, করোনাসহ ট্রেডভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করাটা সময়সাপেক্ষ। যেটি সাধারণ বা মাদ্রাসার ক্ষেত্রে নেই। তবে তিনি বলেন, অহেতুক কোনো জটিলতা তৈরি করে কাউকে বঞ্চিত করা হবে না। 

অন্যদিকে প্রাপ্যতা থাকার পরও এমপিওভুক্তি হতে পারছেন না কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী। যদিও একই সময়ে সাধারণ শিক্ষায় অধিকসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন-ভাতা তুলছেন। ভুক্তভোগীরা এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা, আন্তরিকতার অভাব এবং দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত ঘোষণার পর প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি বোর্ড ও অধিদপ্তর কর্তৃক নিরীক্ষা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সব তথ্য দিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এসব আবেদনের ভিত্তিতে হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী বেতন-ভাতা পেয়েও গেছেন। অথচ অন্যদের কী কারণে আটকে রাখা হচ্ছে তা বোধগম্য নয় বলে বলছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রশ্ন, যাদের অডিট প্রতিবেদনে আপত্তি নেই তাদের কেন আটকে রাখা হচ্ছে নানা অজুহাতে।