ঢাকার তারের ঝঞ্ঝাটমুক্ত করতে সম্প্রতি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এ অভিযানে শুধুমাত্র দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেই সংযোগ বিছিন্ন হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইন্টারনেট ও টেলিভিশনের স্যাটেলাইট সংযোগের তার অপসারণ করছে। করোনাভাইরাসের এই সময়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছন তারা, যারা অনলাইনে কাজ করছেন। যে প্রতিষ্ঠান অনলাইনে লেনদেন করে তারাও কম বিপাকে পড়েনি। বিশেষ করে ব্যাংক লেনদেনে বেশ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
চরম দূর্ভোগে থাকা ও বিচ্ছিন্ন হওয়া দেড় লাখ সংযোগের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার সংযোগ নতুন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক দৈনিক ইত্তেফককে বলেন, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা সিটি কর্পোরেশনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ইশতেহার, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে। নিবন্ধন ফি হিসেবে ২৫ লাখ টাকা সিটি কর্পোরেশনকে দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
আরিফুল হক জানান, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬ এর ২৫ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোন সার্ভিস প্রোভাইডারদের যদি সংযোগ স্থানান্তরের জন্য সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত স্থাপনা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের থেকে লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কেবল সংযোগের কাজে তারা কারও স্থাপনা ব্যবহার করতে পারবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, মাথার উপরে দেখতে পাওয়া নগরীর ভিতরে থাকা অনুমোদনবিহীন তার অপসারণের অভিযান চলছে। তার সরিয়ে নিতে বেশ কয়েক বছর ধরে বার বার নোটিশ প্রদান করা হলেও তেমন কোনো পদক্ষেপ নজরে আসেনি সিটি কর্পোরেশনের। বর্তমান অভিযানে কোন প্রতিষ্ঠানের তার কাটা পড়লো তা দেখা হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন এড়িয়াতে ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই তাদের রাজস্ব প্রদান করতে হবে। মাটির নিচ দিয়ে তার নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদনবিহীন সব তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলমান থাকবে। আশা করা যায় ডিসেম্বর ২০২০ খ্রি. -এর মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/এমএএম

