করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মার্চ থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সম্প্রতি ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনুশীলন করছেন মুশফিকুর রহিম-তামিম ইকবালরা। মিরপুরে এক সপ্তাহের ক্যাম্প হলেও আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য বাংলাদেশের দলগত অনুশীলনের বেশিরভাগই হবে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে। তিন টেস্টের জন্য টাইগারদের মূল স্কোয়াডও ঘোষণা হবে লঙ্কায় পৌঁছে। ২০-২২ জনের প্রাথমিক দল যাবে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেটারদের অবস্থান দেখবেন নির্বাচকরা। তারপরই চূড়ান্ত হবে টেস্টের দল।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের এমনটাই জানিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। লঙ্কা সফরে অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। গতকাল প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘জিম্বাবুয়ে সিরিজে আমরা শেষবারের মতো টেস্ট খেলেছিলাম, এখানে অনেকদিন ধরে আমাদের খেলা নেই। অনুশীলনের মধ্যেও নেই, তারপরও অভিজ্ঞতাটাকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি।’
প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা হবে প্রস্তুতি ম্যাচের পর। নান্নু বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কা গিয়ে আমাদের অনেকগুলো প্রস্তুতি ম্যাচ আছে, ঐখানেই আমরা মূল স্কোয়াডটা ঘোষণা করব। একটা প্রাথমিক দল নিয়ে সেখানে যাব, শ্রীলঙ্কায় ট্রেনিং সেশনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঁচ মাস সবার জন্যই একটা লম্বা বিরতি ছিল এই ব্রেকের মধ্যে কে কতটুকু তাড়াতাড়ি সেরে উঠে, মানসিক দিক দিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করতে পারছে এগুলো সব দেখা হবে। এখান থেকে ২০-২২ জন নিয়ে যাচ্ছি, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পুরো স্কোয়াডটা প্রস্তুত করব। এরপর সেখানে গিয়ে মূল স্কোয়াড দিব।’
জাতীয় দলের পুলে থাকা ৩৮ ক্রিকেটারের করোনা পরীক্ষা করা হবে। এইচপি স্কোয়াডের ২৪ জনও করোনা পরীক্ষার আওতায় থাকবেন। প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘আমাদের একটা পুল আছে ৩৮ জনের। সবাইকে কোভিড টেস্ট করানো হবে। এটা আমরা ব্যাক আপ হিসেবে রেডি রাখছি, সঙ্গে ২৪ জনের একটা এইচপি স্কোয়াডও সেখানে যাচ্ছে। ঐভাবেই আমরা ব্যালেন্স করে রাখছি, যাকে যখন দরকার হবে ব্যবহার করা হবে।’
এদিকে এইচপি চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় একই হোটেলে থাকবে জাতীয় দল ও এইচপি স্কোয়াড। দুই দল একসঙ্গে অনুশীলন করবে এবং প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে পরস্পরের বিপক্ষে। জাতীয় দলের সিরিজ শুরুর আগে এইচপি স্কোয়াড আলাদা হবে। এবং তাদের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে।
তবে এইচপির সিরিজের আগে কয়েকজন ক্রিকেটার ফিরে আসবেন দেশে। গতকাল দুর্জয় বলেছেন, ‘এইচপির যে ২৪-২৫ বা ২৬ জনের স্কোয়াড হয় ঐ পুরো স্কোয়াডটাই যাবে। কিন্তু সিরিজ যখন আমরা খেলি তখন তো পুরো স্কোয়াড থাকে না। তো বাকিরা এমনিতেই ফেরত চলে আসবে।’ শ্রীলঙ্কায় থাকা বোলিং কোচ চম্পকা রমানায়েকেকে কাজে লাগান হবে এইচপি স্কোয়াডে। হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ইংলিশ টবি রেডফোর্ডও যাবেন লঙ্কায়।
