সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছুই যে হইতেছে না তাহা বলিলে অন্যায় হইবে। আমরা লক্ষ করিতেছি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার যুগের সহিত তাল মিলাইয়া আধুনিকীকরণ তথা প্রযুক্তিবান্ধব করিয়া তুলিতে চেষ্টা করিতেছে। তাহারই একটি উদাহরণ হইল, সরকারি চাকুরি হইতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনের অর্থ গ্রহণ সাবলীল ও সহজীকরণের সিদ্ধান্ত। নূতন ব্যবস্থায় কনট্রোলার জেনারেল অব অ্যাকাউন্ট বা সিজিএ অফিস সরাসরি পেনশন প্রদান করিবে। সকল পেনশনারের পাওনা একবারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট দেওয়া হইবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করিয়া দিবে। এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় চালুও করা হইয়াছে। সিজিএ অফিস আগস্ট মাসের পর ঢাকা মহানগরের কোনো ব্যাংক যাহাতে অর্থ না দেয় সেই জন্য নির্দেশনা দেওয়া হইয়াছে। অর্থাত্ পেনশনারদের বইয়ের যুগ আগস্টেই শেষ হইতেছে ঢাকায়। আর ঢাকার বাহিরে ইহা বাস্তবায়িত হইবে ডিসেম্বরে।
দেশের লক্ষ লক্ষ পেনশনারের জন্য ইহা একটি নূতন যুগ শুরু হইতেছে বলিয়া বিবেচনা করিতে হইবে। পেনশনারদের বিড়ম্বনার কথা আমাদের অজানা নহে। প্রথমে পেনশন গ্রহণে এক বিশাল বিড়ম্বনা, উেকাচ দিয়া বহু কষ্টে ছাড়াইয়া লওয়ার অভিযোগ ছিল প্রায় সকলের ক্ষেত্রে। তাহার পর মাসে মাসে হিসাবরক্ষণ অফিস ও ব্যাংকে দৌড়ঝাঁপ করিতে হইত এই সকল বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষের। ইহার সহিত কিছু জটিলতাও দেখা দিত। এতদিন নিয়ম ছিল, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেইখান হইতে পেনশনের অর্থ তুলিতে চান, সেই জেলা বা উপজেলায় হিসাবরক্ষণ অফিস হইতে পেনশন বই দেওয়া হইত। ঐ এলাকার ব্যাংক শাখাগুলিতে পেনশনারদের তালিকা ও পেনশনের পরিমাণ উল্লেখ করিয়া একটি তালিকা দিত হিসাবরক্ষণ অফিস। অবসরপ্রাপ্তদের দুই স্থানেই ছুটিতে হইত। পাশাপাশি প্রতি ১০ মাসে পেনশনার জীবিত আছেন কি না—তাহা প্রমাণ করিতে সশরীরে একবার হিসাবরক্ষণ অফিসে হাজির হইতে হইত। তাহা আর করিতে হইবে না। ঘরে বসিয়াই মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে জীবিত আছেন, তাহা প্রমাণের ব্যবস্থা করা হইবে। নিজের মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করিয়া ফিংগার প্রিন্ট প্রেরণের মাধ্যমে জীবিত নিশ্চিত করা যাইবে। অন্যদিকে পেনশনের পাশাপাশি ব্যাংকের কমিশনবাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করিতে হইত সরকারকে। এই অর্থ সাশ্রয় হইবে সরকারের।
এই যে সরকার এত সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলি ভাবিতে পারিতেছে সরকারের উচ্চমহল, ইহার জন্য প্রশংসার দাবি রাখে বইকি। একটি রাষ্ট্রের সময়ের সহিত তাল মিলাইয়া, জনগণের প্রত্যেক অংশের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করিয়া এবং জনগণের চাহিদার দিকে নজর রাখিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হয়। তাহাতে দেশে স্থিতিশীলতা আসে। বাংলাদেশের সরকারের মধ্যেও ডিজিটালাইজ হইবার প্রবণতা শুধু আশাই জাগাইতেছে না, ইহার সহিত জনগণের নিকট ডিজিটালাইজেশনের নানা সুবিধা পৌঁছাইয়া যাইতেছে। আরো হইবে। বিভিন্ন খাত স্বচ্ছ ও কর্মপদ্ধতিতে সাবলীল হইয়া উঠিবে বলিয়া আমরা বিশ্বাস করি। একটু ধৈর্য তো ধরিতেই হইবে।
