বেনাপোল কাস্টম হাউজে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িত ১০ ক্লিয়ারিং এজেন্টের বিরুদ্ধে তদন্তে মাঠে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল। গত ১২ ও ১৩ আগস্ট প্রাথমিক তদন্ত করে দলটি। এতে নেতৃত্ব দেন মোংলা কাস্টমসের কমিশনার হোসেন আহমদ। এ সময় অভিযুক্ত ক্লিয়ারিং এজেন্ট ব্যবসায়ীরা তাদের বিরুদ্ধে আনা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন।
চলতি বছরের জানুয়ারির মাসে এ কাস্টম হাউসে মোটরসাইকেল আমদানি করে ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়লে তদন্ত করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড মোটরসাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কয়েকশ পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল আমদানি করে। যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে এইচএস কোড ৮৭১৪.১০.৯০-এর বিপরীতে ৫৮ দশমিক ৬০ শতাংশ শুল্ক কর পরিশোধ করে। সিপিসি ৬৮০-এর সুবিধা নিয়ে রেয়াতি হারে বিপুলসংখ্যক পণ্য খালাস করে। এভাবে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড ও বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট মেসার্স শামসুর রহমান এবং সুজন এন্টারপ্রাইজ জালিয়াতির মাধ্যমে বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকি দেয়। পণ্য চালানে এলসি, ইনভয়েজ ও প্যাকিং লিস্ট জালিয়াতি করে শুল্ক ফাঁকি ও মানি লন্ডারিং করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পায় এনবিআর।
বেনাপোল কাস্টম সূত্র জানায়, শামছুর রহমানসহ বেনাপোলের ১০ জন ক্লিয়ারিং এজেন্ট ব্যবসায়ীর শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ যায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। সেখান থেকে বিষয়টি খোঁজ নিতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে এনবিআর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন।
শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে এমন বাকি নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো শামছুর রহমানের ছোট ভাই জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজের মালিক হাবিবুর রহমান, তাদের ভাগ্নে মেসার্স অর্ণব এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. এমদাদুর রহমান বাবু, সোহান ট্রেডের মালিক আহসান হাবীব সেলিম, লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক নুরুজ্জামান লিটন, বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজের আব্দুল মোত্তালিব, মিলিনিয়ামের মালিক দিলাল উদ্দিন লিটন, আনুষা ইমপেস্ক এর মো. নুরুল আলম স্বপন, রাতুল ইন্টারন্যাশনালের মো. আব্দুল লতিফ এবং জামান ট্রেডার্সের খায়রুজ্জামান মধু।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বিদেশি সংস্থার নামে ঘর নির্মাণ, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা
এ অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স শামছুর রহমানের স্বত্বাধিকারী শামছুর রহমান জানান, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমার মতো সবাই লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিয়েছে।
মেসার্স অর্ণব এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. এমদাদুর রহমান বাবুও একই ধরনের কথা জানান। তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি দুদিন ধরে কাজ করে ফিরে গেছে। পরে তারা এনবিআরে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে। অভিযোগগুলো প্রমাণ হলে সেখানে তারা সুপারিশ করবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির প্রধান ও মোংলা কাস্টমস কমিশনার হোসেন আহমদ জানান, আমরা খুব বেশি তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তদন্তে নেমেছিলাম। তারপরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করেছি। শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দেবো।
উল্লেখ্য, গত ১০ অর্থবছরে বেনাপোলে দুই হাজারের বেশি শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ধরেছে কাস্টমের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। এসব ঘটনায় তারা শুধু জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দিয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি
