রামগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ দুটি মামলা তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ২২:২৫

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোর্ট ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক নির্যাতনের শিকার নারী। ২২ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। বিচারক বাদীর জবানবন্দি শুনে মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন। অপরদিকে একই দিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (রামগঞ্জ) আমলি আদালতে মো. বেলায়েত হোসেন রিপন বাদী হয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেন চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধে। পরে বিচারক এ মামলাটি গ্রহণ করে ডিবির ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

গত ৬ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে দায়েরকৃত মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের মামলার আইনজীবী মো. শাহ আলম।

অ্যাডভোকেট শাহ আলম জানান, চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিক তার নিজ বাসায় বিভিন্ন সময়ে গৃহকর্মীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরে ২২ জুলাই ঐ গৃহকর্মী বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত ঐদিন শুনানিশেষে মামলাটি আদেশের জন্য রাখে। ৬ আগস্ট মামলাটি আমলে নিয়ে লক্ষ্মীপুর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ প্রদান করে।

চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত ঐ গৃহপরিচারিকা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিকের বাসায় তার মা কাজ করতেন। হঠাত্ তার মা অসুস্থ হলে তাদের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতে যায় সে। চলতি বছরের ২২ মার্চ বিকালে চেয়ারম্যান জোরপূর্বক বাসার দোতলায় নিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও চেয়ারম্যান তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে কাউকে ঘটনাটি বললে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার নারী।

মামলা তুলে নিতে তাদেরকে চাপ দিচ্ছেন চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিক। চেয়ারম্যানের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী ও তার মা। তাদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকে তারা বাড়িতে থাকতে পারেন না। চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে গুম করারও হুমকি দেন বলে জানান নির্যাতনের শিকার নারী।

আরেক মামলার বাদী মো. বেলায়েত হোসেন রিপন জানান, চেয়ারম্যান বশির আহমদ মানিকের কাছে বাকিতে বিভিন্ন সময় মালামাল বিক্রি করেছেন তিনি। দোকানের পাওনা টাকা চাইলে তাদের ওপর হামলা চালায় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। এ সময় দোকানের টাকা ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় তারা। এখন চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

গৃহকর্মীকে ধর্ষণের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিকের বিচার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। গত ৭ আগস্ট ভোলাকোর্ট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নাগমুদ বাজারের কয়েক শ নারী ও পুরুষ এ কর্মসূচি পালন করে।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান বশির আহমেদ মানিক জানান, একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করে উক্ত মেয়েকে দিয়ে সাজানো ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনা। ষড়যন্ত্রের শিকার বলেও দাবি করেন তিনি।

অপর দিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর হাসপাতালের এক চিকিত্সক জানান, নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর রিপোর্ট নিয়ে সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটার দুই/এক দিনের মধ্যে ভিকটিমের মেডিক্যাল চেকআপ করা হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। কিন্তু এ মামলায় যেহেতু ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল পাঁচ মাস আগে, এ অবস্থায় পাঁচ মাস পরে মেডিক্যাল চেকআপে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবে না। কিন্তু নির্যাতিত গৃহকর্মী যেহেতু কুমারী, তাতে তার কুমারীত্ব নষ্ট হয়েছে কি না, তা রিপোর্টে আসবে। রিপোর্টে গৃহকর্মীর কুমারীত্ব নষ্ট হয়েছে কি না, এ বিষয়টি রিপোর্টে উল্লেখ করার জন্য সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে বলেন সিভিল সার্জন। এ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে তাদের মধ্যে।

গৃহকর্মীর মেডিক্যাল পরীক্ষার বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফ্ফার জানান, মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট হবে।  এ মামলার বিষয়ে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান জানান, মামলাটি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।