বিনিয়োগে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে বেজার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ২২:২৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ধারা গতিশীল করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে আরো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেজার গভর্নিং বডির সপ্তম ভার্চুয়াল বৈঠকে এই আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা আরো গতিশীল করতে চাকরির পেছনে ছোটার পরিবর্তে বিনিয়োগ করতে (১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন) ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশেষ করে যুবসমাজকে উত্সাহিত করতে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী আবাদি জমি এবং পরিবেশ রক্ষা করে চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে স্থানীয় বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্পায়নের পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও অনুরূপ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল তবে আরো শিল্পায়নের প্রয়োজন।

বেজার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করেছে। আমরা আবাদি জমি এবং পরিবেশ রক্ষায় ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ এলাকা নির্বাচিত করেছি। তিনি বলেন, সরকার দেশে কর্মসংস্থান এবং দেশবাসীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিশেষ করে রফতানি বৃদ্ধি করতে সারা দেশে পরিকল্পিত শিল্পায়ন করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের নেওয়া পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ করে বলেন, প্রতিটি খাতেই বঙ্গবন্ধু সরকারের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচি দেখে আমি বিস্মৃত হয়েছিলাম। স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরে এমন কোনো খাত ছিল না, যেখানে বঙ্গবন্ধু সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের নেওয়া এসব পদক্ষেপের ফলে মাত্র সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনক, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে জাতির পিতা এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর সামরিক স্বৈরশাসকদের নেওয়া পদক্ষেপে পাকিস্তানি স্টাইলে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এবং হত্যাযজ্ঞ চলে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সকল খাতে দেশকে স্বাবলম্বী করে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না থাকায় দেশ আবার সাত-আট বছর পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো দেশের অর্থনীতির ওপরেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। করোনা ভাইরাস অবসানের পর বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনীতি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।