নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি জরুরি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ২৩:৫৯

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহের অবসান ঘটাতে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সংসদ পর্যবেক্ষণশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংসদীয় চর্চার মাধ্যমে এই সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান জরুরি। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সব রকম হয়রানির অবসান ঘটাতে এর অনুকূলে আইন প্রণয়ন করতে হবে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সব রকম হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার রাতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব স্পিকার্স অব পার্লামেন্ট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় একে অপরের পরিকল্পনা বিনিময়ের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্পিকার।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এটি উদীয়মান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম। সেই সঙ্গে মহামারি কোভিড-১৯ পরবর্তী অবস্থায় বিশ্বের সব মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের ওপর বিপুল প্রভাব মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে  বের করতে সাহায্য করছে এই কনফারেন্স।

‘মেকিং জেন্ডার ইকুয়িলিটি অ্যান্ড দ্য এম্পাওয়ারমেন্ট অব ওমেন অ্যান্ড গার্লস এ রিয়েলিটি:বেস্ট প্রাকটিসেস অ্যান্ড পার্লামেন্টারি কমিটমেন্টস’-এর ওপর রিপোর্ট উপস্থাপনকালে স্পিকার শিরীন শারমিন বলেন, বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক কোভিড- ১৯ মহামারি নারীদের বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে ত্বরান্বিত করেছে। এই মহামারি পারিবারিক সহিংসতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহু গুণে। বাল্যবিবাহ ও সহিংসতার আশু প্রতিকারকল্পে সমন্বিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো জরুরি।

ক্লেইরি ডুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কেনিয়ার স্পিকার কেনেথ লুসাকা ও রুয়ান্ডার স্পিকার ডোনেটিল মুকাবালিসা রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েলা চুয়েভাস ব্যারন, অস্ট্রিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ওফগ্যাং সবতকা ও জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস সূচনা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরমা দত্ত এমপি, রওশন আরা মান্নান এমপি, অপরাজিতা হক এমপি, রুমানা আলী এমপি ও পীর ফজলুর রহমান এমপি বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ডেলিগেশনের অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়স্থ শপথ কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।