এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ১৯:২৪

বাংলা

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ,বিজিবি সদরদপ্তর, পিলখানা, ঢাকা

 

 

মমতাদি

 

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :                                                                        

“সবারে বাসিব ভালো, করিব না আত্মপর ভেদ

সংসারে গড়িব এক নতুন সমাজ।

মানুষের সাথে কভু মানুষের রবে না বিচ্ছেদ

সর্বত্র মৈত্রীর ভাব করিবে বিরাজ।”

 

ক.হরির লুট কী?                                                                                                                                                         ১

খ.‘অমন কথা তোমার শত্রুও বলতে পারবে না মা’-কথাটি কে, কাকে, কেন বলেছেন?                                                                  ২

গ.উদ্দীপকের সাথে ‘মমতাদি’ গল্পের সাদৃশ্য তুলে ধর।                                                                                                        ৩

ঘ.উদ্দীপকের প্রথম লাইনটি ‘মমতাদি’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।                             ৪

 

ক.হরির লুট হলো দেবতা হরিকে লুটিয়ে দান করা এবং সেখান থেকে প্রচুর প্রসাদ গ্রহণ করা।

খ.প্রশ্নোক্ত কথাটি স্কুল পড়ুয়া ছেলের মা মমতাদিকে বলেছেন।

স্বামীর চাকরি না থাকায় মমতাদি অন্যের বাড়িতে কাজ নেয়। ঐ বাড়ির স্কুল পড়ুয়া ছেলেটির সঙ্গে তার স্নেহের সম্পর্ক তৈরি হয়। তার স্বামীর চাকরি হওয়ার খবরটি শুনে ছেলেটি খুশি হয়ে তার মাকে জানিয়ে দেয়। মা বললেন, তোমার কষ্ট দূর হয়েছে তাতে আমরাও খুব সুখী। তুমি ইচ্ছে করলে কাজ ছেড়ে দিতে পার। মমতাদি বলল, আমি কাজ করব। তার সামান্য চাকরি, তাতে কুলবে না মা। আমায় ছাড়বেন না। আমার কাজ কি ভালো হচ্ছে না? মমতাদির এমন প্রশ্নের উত্তরে ছেলেটির মা প্রশ্নোক্ত কথাটি বললেন। অর্থাত্, মমতাদির কাজ খুব ভালো। তার কাজে সবাই সন্তুষ্ট। তার শত্রু থাকলে সেও বলতে পারবে না মমতাদির কাজ ভালো নয়। 

গ. স্তরের সমাজের ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু গ. স্তরের     ভেদাভেদ না করে সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মৈত্রীপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘মমতাদি’ গল্পের সাদৃশ্য বিদ্যমান। মানিক  মানিকবন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মমতাদি’ গল্পে গৃহপরিচারিকা পেশায় নিয়োজিত মানুষের প্রতিও যে মানবিক আচরণ করা হয় সেই দিকটা ফুটে উঠেছে। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা মর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের হয়েও অভাবের তাড়নায় অন্যের কাজ করতে যায়। তার মধ্যে মমতাদিও একজন। এদের মর্যাদাকে সকলে রক্ষা করতে দেয় না। উদ্দীপকে এক সৌহার্দ্যপূর্ণসমাজের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের ভেদাভেদ ভুলে, সকলকে ভালোবেসে সেই সমাজের সদস্য হওয়ার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। আর এভাবে চলতে পারলে মানুষে মানুষে রবে না কোনো বিচ্ছেদ। একে অন্যের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। মানুষের মাঝে গড়ে উঠবে এক আত্মিক বন্ধন। আবার ‘মমতাদি’ গল্পেও শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজের চিত্র উদ্ভাসিত হয়েছে। যেখানে মানুষকে দেওয়া হয়েছে তার প্রাপ্য মর্যাদা। আর তাই স্কুল পড়ুয়া ছেলেটি ও তার পরিবার সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহপরিচারিকা মমতাদির প্রতি। আপন করে স্থান দিয়েছে সেই পরিবারে। আর এভাবেই একটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও বসবাসের উপযোগী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। যা ‘মমতাদি’ গল্পের গল্পকথকের বাড়িতে মমতাদিকে স্থান দেওয়ার পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ.‘মমতাদি’ গল্পের মমতাদির সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ও ভালোবাসার মধ্যদিয়ে গল্পকথকের পরিবারে স্থান দেওয়ায় উদ্দীপকের প্রথম লাইনটি আলোচ্য গল্পে সার্থক হয়েছে।     ‘মমতাদি’ গল্পে লেখক মানিকবন্দ্যোপাধ্যায় সমাজের অসহায় মানুষদের বিপদে এগিয়ে আসার চিত্র অঙ্কন করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। মমতাদির প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে গল্প কথকের পরিবার গড়ে তোলে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভেদাভেদহীন মৈত্রীর বন্ধন। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, এমনি এক ভেদাভেদহীন সমাজ। সুন্দর, সুখী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের দিক নির্দেশনা রয়েছে উদ্দীপকে। সেই সমাজই পারে মানুষে মানুষে মৈত্রীর ভাব গড়ে তুলতে। সেখানে থাকবে না কোনো দ্বন্দ্ব, সকলে একই ঐকতানে বলবে কথা। ধনী-গরিব বলে কাউকে ছোট করে দেখা যাবে না। সমাজে বসবাসরত সবাইকেই ভালোবাসতে হবে। আর এই সমাজই পারবে সকল বিভেদ দূর করতে। ফলে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটবে না। সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে। উদ্দীপকের এই ভেদাভেদহীন সমাজের  শিক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে ‘মমতাদি’ গল্পের গল্পকথকের পরিবারের সদস্যদের মাঝে। একজন রাঁধুনির সাথেও গল্পকথকের পরিবার আন্তরিক আচরণ করে। মমতাদিকে তারা পরিবারের একজন সদস্যের মতোই মনে করে। মমতাদিও তাদের খুব ভালোবাসে।                                           সুতরাং উদ্দীপক ও গল্প বিশ্লেষণে    

তাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, সমাজে বসবাসরত প্রত্যেক মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা উচিত। গরিব ও অসহায় বলে কাউকে অবহেলা করা উচিত নয়। তাহলে সুশৃঙ্খল ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।