শল্যচিকিত্সার ক্ষেত্রে অ্যানেসথেসিয়া বা অসাড়করণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করিয়া আধুনিক যুগে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট বা অসাড়করণ চিকিত্সকের দ্বারা রোগীকে অচেতন করা ছাড়া বড় কোনো অপারেশন কল্পনাই করা যায় না। এমনকি অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকিলে অপারেশনের তারিখ পরিবর্তনও করা হইয়া থাকে। সেই সঙ্গে ইহাও মনে রাখিতে হইবে যে কর্মক্ষেত্রে একজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট কেবল রোগীকে অচেতনের কাজই করেন না, তাহারা আইসিইউতে পেইন ম্যানেজমেন্ট ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারে থাকা রোগীদেরও পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবা দিয়া থাকেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ হইতে জানা গিয়াছে, এহেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের জন্য রহিয়াছে এক জনেরও কম অ্যানেসথেসিওলজিস্ট। অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুসারে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য এক জন এই প্রকারের চিকিত্সক থাকিবার কথা। জানা গিয়াছে, সরকারিভাবে দেশে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট আছেন সর্বমোট ৯৪৯ জন এবং বেসরকারিভাবে রহিয়াছেন ৬২৬ জন। অস্বাভাবিকই বটে। ইহার ফলও আমরা প্রায়ই দেখিতে পাই। কোথাও কোথাও জরুরি অপারেশনের ক্ষেত্রে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কাজটি কোনো টেকনিশিয়ান, নার্স অথবা হাসপাতালের কোনো নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী করিয়া থাকেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, অনেসথেসিয়ার পরিমাণের হেরফেরের কারণে রোগী মৃত্যুর মুখেও পড়িতে পারে এবং এই ধরনের ঘটনার উদাহরণ রহিয়াছে। অনেক হাসপাতালে এই পদটি খালি রহিয়াছে। সেই সকল হাসপাতালে অপারেশনও হইতেছে। প্রশ্ন আসে, অ্যানেসথেসিয়ার কাজটি করিতেছেন কে?
আমাদের জানামতে, বর্তমানে স্বাস্থ্যে বিভিন্ন পদে লক্ষাধিক লোকবল রহিয়াছে। সুনির্দিষ্ট করিয়া বলিলে প্রায় ১ লক্ষ ৫৭ পদের বিপরীতে প্রায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার কর্মরত রহিয়াছেন। হয়তো সমগ্র দেশের জন্য এই সংখ্যা অপ্রতুল। কিন্তু পদের অনুপাতে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের সংখ্যা যে খুবই হতাশাজনক, তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না।
সরকার সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে চিকিত্সক নিয়োগ করিতেছে। সেই ক্ষেত্রে যেন অ্যানেসথেসিওলজিস্টের খালি পদগুলোর কথা বিবেচনা করা হয়, ইহাই আমাদের পরামর্শ থাকিবে। দেশে গড়িয়া উঠিতেছে অনেক চিকিত্সাসেবা-প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে দেশের মেডিক্যাল হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলি সম্প্রসারিত হইতেছে। অভিযোগ আছে, সেই অনুপাতে সার্জনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হইলেও অ্যানেসথেসিওলজিস্টের পদ বৃদ্ধি করা হইতেছে না। ইহা অনেকটা চড়িবার জন্য ঘোড়া কিনিয়া ছড়ি না কিনিবার মতো। এই করোনাকালে অ্যানেসথেসিওলজিস্টের কাজের বিষয়টি আরো স্পর্শকাতর ও অপরিহার্য হইয়া উঠিয়াছে। সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতিনির্ধারকদের আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিতে অনুরোধ করিব। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে যে কতগুলি অ্যানেসথেসিওলজিস্টের পদ খালি রহিয়াছে তাহাতে যেন নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
