ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ঢাকায় গ্রেফতার

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ২২:২৫

২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীম। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদারকি কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার। তিনি বলেন, আজ তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের          মামলা দায়েরের পর থেকে ফরিদপুরের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও  আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ঢাকায় আত্মগোপন করেছেন। তিনি ঐ সময় ঢাকায় এসে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করেন। মাঝে মধ্যে মগবাজার এলাকার একটি গণমাধ্যম অফিসে তিনি যাতায়াত করতেন। গণমাধ্যমের ঐ মালিক ফরিদপুরে তার আশ্রয়দাতা ছিলেন। তিনি ফরিদপুরের রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মার্কেটিং বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

গত ২৬ জুন শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামি করে অবৈধ উপায়ে ২ হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাটি করে সিআইডি। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সে সময় এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করে রুবেল ও বরকত।

মামলার তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় আরো গ্রেফতার হয়েছে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শামীমের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে চাঁদাবাজি ও হামলার মামলা রয়েছে। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ঐ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য, ১৬ জুন রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ জুন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। এরপর ৭ জুলাই সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেফতার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরো সাত জন। এর পরে সিআইডি পুলিশ বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেলে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা করে সিআইডি।