চাঁদ খুঁজতে বারবার বিড়ম্বনা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ২২:২৬

শাওয়ালের পর এবার মহরমের চাঁদ দেখা নিয়েও বিড়ম্বনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হলো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি দীর্ঘ বৈঠকে বসেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কোথাও চাঁদ দেখার খরব না পেলেও শেষ পর্যন্ত রাত ১১টার দিকে মহরমের চাঁদ দেখা গেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ নিয়ে চলছে বিতর্ক। গত বছর ২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের আগে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ‘চাঁদ দেখা গেছে চাঁদ দেখা যায়নি’—এমন বিতর্ক শেষে মধ্যরাতের পর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ’কাল ঈদ’।  প্রায় প্রতি বছরই চাঁদ দেখার সঠিক তথ্য নিয়ে একাধিকবার ঘটছে এমন ঘটনা।

মূলত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় খালি চোখে চাঁদ দৃষ্টিগ্রাহ্য না হওয়ার কারণে এই সমস্যার উদ্ভব হয়ে আসছে। এই সমস্যা সমাধানে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো চাঁদ দেখতে বাংলাদেশেও থিওডোলাইট টেলিস্কোপ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছরের ১০ জুন ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, চাঁদ দেখতে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্র ক্রয় করা হবে। থিওডোলাইট টেলিস্কোপের প্রতিটির দাম ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে পুরোনো আমলের টেলিস্কোপ থাকলেও তা অনেকটাই অকেজো। চাঁদ দেখা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের ঈদ পালনে সমস্যা হয়। চাঁদ দেখার খবরের দেরি হওয়ায় বিপদে পড়ে দেশের সংবাদপত্রগুলো। খালিজ টাইমস খবরের সূত্র অনুযায়ী, সৌদি আরব আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে আধুনিক টেলিস্কোপের মাধ্যমে রমজান, শাওয়াল ও অন্যান্য মাসের চাঁদ চিহ্নিত করছে।

ইসলামি শরিয়তের নীতি হলো, মানুষ যে দেশে বাস করেন সে দেশের স্বীকৃত চাঁদের হিসাবে মাস কার্যকর হবে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের আলেমরা মোটামুটি একমত যে, চাঁদ স্বচক্ষে দেখার পরই রোজা-ঈদ শুরু করতে হবে অথবা কমপক্ষে দুই জন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তির সাক্ষ্য        লাগবে, যারা নিজ চোখে চাঁদ দেখেছেন। হাদিসে এসেছে রাসুল (সা.) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও দেখতে উত্সাহিত করতেন। ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, কখনো ঊনত্রিশ দিনে মাস হয় জেনেও রাসুল (সা.) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ রোজা পূর্ণ করতে বলেছেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আগাম খবর জেনে যে সময়ে যে এলাকায় চাঁদ উদয়ের তথ্য থাকে, সে এলাকার প্রশাসন ও চাঁদ দেখা কমিটি তত্পর হলে এবং চাঁদ দেখার খবর প্রচারে ঐ এলাকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা গেলে সমস্যার অনেকখানি সমাধান হয় বলে এক শ্রেণির আলেমের অভিমত।

এদিকে বাংলাদেশে কখন চাঁদ উঠবে এবং ডুববে তা আগেই জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে জানিয়ে থাকে স্পারসো। আকাশের মেঘ পরিস্থিতির প্রতিবেদেনও তারা দেয়। স্পারসোর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে বলতে পারি কখন চাঁদ দেখা যাবে। কিন্তু মেঘলা আকাশ বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে আমাদের এখানে সরাসরি খালি চোখে চাঁদ দেখার ব্যবস্থা নেই। এজন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক বাইনোকুলার দরকার হয়। আমরা এখন এ ধরনের একটি প্রজেক্ট নিয়ে চীনের সঙ্গে কাজ করছি। এটা বাস্তবায়ন হলে খালি চোখে চাঁদ দেখার এই সমস্যা থাকবে না।