ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে করোনা ভ্যাকসিন বিতরণ করতে চায় ডব্লিউএইচও

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ২২:৩১

করোনা ভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন তৈরিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে রাশিয়া, চীন করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করা ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। অন্য দেশেও ভ্যাকসিন তৈরির কাজ সমান গতিতে এগিয়ে চলেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মিলবে কার্যকর ভ্যাকসিন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির পর তা কীভাবে বিভিন্ন দেশে বিতরণ করা হবে। বিশ্বের সব দেশ যাতে ন্যায্য এবং সাম্যের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পায়—সেজন্য কিছু নীতিমালা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এক্ষেত্রে ডব্লিউএইচওর সঙ্গে কাজ করছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমুউনিজেশন (গাভি) এবং কোয়ালিশন ফর ইপিডেমিক প্রিপারডনেস ইনোভেশন (সিইপিআই)। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালায় বলা হয়েছে, কার্যকর ভ্যাকসিন প্রথমে কারা পাবে—তা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে। কার্যকর ভ্যাকসিন এলে তা যেন কোনোভাবেই ধনী দেশের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে চায় ডব্লিউএইচও। এটি করা গেলে ধনী দেশগুলোর পাশাপাশি        গরিব দেশের মানুষও ন্যায্য এবং সাম্যের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাবে। ভ্যাকসিন বিতরণের ক্ষেত্রে দুইটি ধাপ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছে ডব্লিউএইচও। তাদের পরামর্শ মতে, প্রথম ধাপে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সব দেশে ভ্যাকসিন দিতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে বিশ্বের যেসব দেশে করোনা ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেখানে বেশি সংখ্যাক ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে হবে।

প্রতিটা দেশকেই নির্ধারণ করতে হবে—সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, শিশু, গর্ভবতী নারী নাকি বয়স্ক জনগোষ্ঠী কারা প্রথমে ভ্যাকসিন পাবে। এক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। ডব্লিউএইচওর পরিচালক টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়েসাস বলেন, প্রতিটি দেশকে তার দেশের সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাধান্য দিতে হবে। প্রথম ধাপে প্রতিটা দেশের জনসংখ্যার ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন দিতে পারলে তা ঝুঁকিপ্রবণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন বিতরণ কার্যক্রম প্রতিটা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করবে। এছাড়া শিশু এবং বয়স্কদের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছানো গেলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছে ভ্যাকসিন বিতরণের ক্ষেত্রে তারা করোনা প্রতিরোধে মাঠে থাকা সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাধান্য দেবে।

ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে কেন এত অনিশ্চয়তা? ভ্যাকসিন তৈরির জন্য বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের পেছনে বিনিয়োগ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ কয়েকটি দেশ। ফলে অনেকেই মনে করছেন, ভ্যাকসিন তৈরির জন্য এসব দেশ বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করায় ভ্যাকসিন বিতরণেও হস্তক্ষেপ করতে পারে তারা। সেটি হলে বঞ্চিত হতে পারে বিশ্বের গরিব এবং অনুন্নত অনেক দেশ।—টাইমস অব ইন্ডিয়া