রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক ও বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে চিকিত্সার জন্য জার্মানি নেওয়ার অনুমতি মিলেছে। এর আগে চিকিত্সকরা জানিয়েছিলেন, নাভালনির অবস্থা এতোটা সংকটাপন্ন যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়। নাভালনিকে উন্নত চিকিত্সার জন্য জার্মানিতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তার স্ত্রী। তিনি ক্রেমলিনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের
সাইবেরিয়ার ওমস্ক ইমার্জেন্সি হাসপাতালের উপ-প্রধান আনাতোলি কালিনিচেঙ্কো জানিয়েছেন, নাভালনির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জার্মান চিকিত্সকরাও তাকে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তাই তারা এই কাজে সহযোগিতা করছেন। এর আগে আনাতোলি কালিনিচেঙ্কো বলেছিলেন, তারা বিশ্বাস করেন না যে নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাভালনির রক্ত কিংবা প্রস্রাবে বিষ পাওয়া যায়নি। তার শরীরের কোথাও বিষ পাওয়া যায়নি। সম্ভবত, আমাদের মনের ভেতর বিষ প্রয়োগের বিষয়টি গেথে গিয়েছে। নাভালনি বিষক্রিয়ায় ভুগছেন বলে তারা বিশ্বাস করেন না। তবে হাসপাতালের প্রধান চিকিত্সক আলেক্সান্ডার মুরাখোভিস্কি বলেন, নাভালনির পোশাক এবং আঙ্গুলে শিল্পে ব্যবহারযোগ্য রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। তাকে বাইরে চিকিত্সার বিষয়ে আলেক্সান্ডার মুরাখোভিস্কি বলেন, তার অবস্থা খুবই সংকটজনক। এমনকি সবচেয়ে বড় দুঃখজনক ঘটনাটিও ঘটতে পারে।
রুশ বিরোধী নেতার স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনিয়া বিষ প্রয়োগ করা হয়নি এমন তথ্য বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন। তিনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাভালনি ভালো রাষ্ট্রে নেই। তাই এখানকার হাসপাতালে তার ভালো চিকিত্সা হবে না। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিত্সা করা প্রয়োজন। নাভালনির টিমও জানিয়েছে, নাভালনির শরীরে এমন পদার্থ আছে যা তাকে এবং তার আশেপাশের মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে। সেজন্যই তাকে বাইরে আনা হচ্ছে না। টিম জানায়, এর আগে পরিবহন পুলিশ নাভালনির শরীরে এমন কিছু পদার্থ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল যা ভয়ানক প্রকৃতির। এসব পদার্থের চিহ্ন মুছে ফেলতেই নাভালনিকে বাইরে আনা হচ্ছে না বলে তাদের অভিযোগ।
