দাবানল :অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সাহায্য চাইল ক্যালিফোর্নিয়া

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২১:১৬

n ১ লাখ ৭৫ হাজার বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে

বিবিসি

অসংখ্য ঘরবাড়ি ও একের পর এক বনাঞ্চল পুড়িয়ে দেওয়া দাবানল মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার কাছে সাহায্য চেয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে গত সপ্তাহে কয়েক হাজার বজ পাতে সৃষ্ট ৫৬০টি ছোট-বড় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২ হাজারেরও বেশি দমকলকর্মী হিমশিম খাচ্ছেন। 

শুক্রবার নিউসম দাবানল মোকাবিলায় ‘সেরা দমকলকর্মীদের পাঠাতে’ অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার কাছে অনুরোধ করেন। অরেগন, নিউ মেক্সিকো, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও ক্যালিফোর্নিয়ায় দমকলকর্মী, ফায়ার ইঞ্জিনসহ নানান ধরনের সাহায্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে তীব্র দাবদাহ চলার সময়ই গত সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এসব বজ পাত থেকেই আগুনের সূত্রপাত, যা এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ১ লাখ ৭৫ হাজার বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য করেছে। পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় আগুনের মধ্যে কয়েকটি অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিগুণ আকৃতি নিয়েছে বলে শুক্রবার অঙ্গরাজ্যটির জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি আগুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সপ্তম ও দশম বৃহত্তম বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ভয়াবহ এই দুর্যোগ এরই মধ্যে ছয় জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, অন্তত ৪৩ জন দমকলকর্মীকে আহত করেছে, পুড়িয়েছে কয়েক শ বাড়িঘর। সান ফ্রান্সিসকোর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়গুলোতে আগুন সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ‘অনেক অনেক বছর ধরে এমন কিছু দেখিনি আমরা।’ বলেছেন নিউসম। আগুন এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ভেতরে রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সমপরিমাণ এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই গভর্নর।

অঙ্গরাজ্যটির কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে ভয়াবহ এই দাবদাহ ও দাবানল ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ পরিস্থিতিতে আগুনের আশপাশে থাকা বাড়িঘরগুলোর অনেক বাসিন্দাই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাইছেন না। বার্তা সংস্থা সিএনএনকে এক নারী বলেছেন, দাবানলের কারণে তিনি বাড়ি ছেড়ে ভাকাভিলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে যেতে বাধ্য হলেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন ভেবে তিনি সেন্টারটির ভেতরে যেতে সাহস করেননি। ‘আমরা কেবল কোভিড-১৯ মোকাবিলা করছি না, মোকাবিলা করছি দাবদাহ ও আগুনও।’ বলেছেন আপাতত নিজের টয়োটা প্রিয়াস গাড়িতে রাত কাটানো শেরিল জার্ভিস।